ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

রাশিয়া থেকে ১ লাখ টন সার আমদানিসহ ৩টি প্রস্তাব অনুমোদন

২০২৬ জুন ১৭ ১৫:৩৮:৪৭
রাশিয়া থেকে ১ লাখ টন সার আমদানিসহ ৩টি প্রস্তাব অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার : ইরান-আমেরিকা-ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সার সরবরাহকারী দেশগুলোর উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

সেইসঙ্গে চট্টগ্রামের আনোয়ারা চাইনিজ ইকোনমিক জোন ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত বেজার পৃথক দুটি প্রস্তাবে কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সভায় প্রস্তাব তিনটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সার সরবরাহকারী দেশগুলোর উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদানুযায়ী সার সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও অদ্যাবধি কোনো ক্রয় সম্পন্ন করা যায়নি। ফলে জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া মিনি পিক সিজন ও পরবর্তীতে পিক সিজনে সারের মজুত গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
এ অবস্থায় কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম ব্যবস্থার বিকল্প উৎস হিসেবে ডেলটা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি, ইউএই (স্থানীয় এজেন্ট: আবেদিতা ট্রেডিং, ঢাকা) ও প্রস্তুতকারক পিজেএসসি আরকন, রাশিয়ার কাছ থেকে বিসিআইসির বিদ্যমান জিটুজি চুক্তির প্রাইস ফর্মুলা অনুসরণে ১ম ধাপে ৪০ হাজার টনসহ লট ভিত্তিতে ১ লাখ টন ইউরিয়া সার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

সভায় চট্টগ্রামের জেলার আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য গঠিত স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) বাংলাদেশ সিইআইজেড কো. লি.-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিতব্য ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ও ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন ও স্বাক্ষরের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর জিটুজি ভিত্তিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সিইআইজেড স্থাপনের জন্য স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) বাংলাদেশ সিইআইজেড কো. লি. গঠন করা হয়। যার মালিকানার ৩০ শতাংশ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং ৭০ শতাংশ চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) শেয়ার ধারণ করবে। এ অবস্থায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য এসপিসি বাংলাদেশ সিইআইজেড কো. লি.-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিতব্য ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন ও স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। বেজার ৩০ শতাংশ শেয়ার মূলত প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজ মূল্যকে বেজার মূলধন হিসেবে গণ্য হবে। অপরদিকে সিআরবিসির ৭০ শতাংশ শেয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগদ মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করবে, যা সিইআইজেডের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

সভায় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটি কর্তৃক দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সুপারিশ করা অংশ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এনবিআরসহ ১০টি সংস্থার সমন্বয়ে বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশক্রমে চট্টগ্রামস্থ কর্ণফুলী নদীর তীরে আনোয়ারাতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের জন্য বেজার গভর্নিং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিডিবির মালিকানাধীন যে পরিমাণ জমি গ্রহণ করা হবে, বেজা অন্যত্র সমপরিমাণ জমি বিপিডিবিকে দেবে। এ অবস্থায় মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত বেজা গভর্নিং বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

(ওএস/এএস/জুন ১৭, ২০২৬)