প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
পাংশায় খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান, উর্বর হবে কৃষি জমি
২০২৬ জুন ১৮ ১৯:০৫:২৮
একে. আজাদ, রাজবাড়ী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) এর আওতায় রাজবাড়ী পাংশায় খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি'র ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাঁকি ৫ শতাংশ কাজ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন পাংশা উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
উপজেলার যশাই ইউনিয়ন ও পাট্টা ইউনিয়নে আলাদা দুটি প্রকল্পের ১৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন ৭৭১ জন অতি দরিদ্র শ্রমিক। প্রকল্প এলাকার কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল দুটি খনন করা হলেও, দীর্ঘদিন যাবত পুনঃখনন না করায়, ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার কারনে কৃষি জমির চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিলো। পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা কাটিয়ে কৃষি জমির উর্বরতা বাড়বে, অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে কৃষক। ফলে উৎপাদন বাড়বে কৃষি খাতে। এছাড়াও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায়, খালের দুই পাড়ে তাল গাছ রোপনের ফলে হ্রাস পাবে বজ্রপাতের ঝুঁকি। গরমে কৃষক পাবে স্বস্তির ছায়া। এই খাল খননের ফলে কৃষক যেমন পাট ভেজানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে, তেমনি শুকনো মৌসুমেও সেচের জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরতা কমবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল হক বলেন, ইতিমধ্যে প্রকল্প দুটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাকি কাজ মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে। এতে প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয়ে কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি পণ্যের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি তাল বৃক্ষ রোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাত কমবে।
যশাই ইউনিয়নের ঢেকিপাড়া খাল খননের পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খাঁন বলেন, দেশনেতা তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খনন প্রকল্প ছিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের ঢেকিপাড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প চলমান। ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রকপ্লের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা খুবই ভালো কাজ করছে এবং তারা নিয়মিত তাদের মজুরি পাচ্ছে বলে তাদের সাথে কথা বলে জেনেছি। এরপরও যদি কোন শ্রমিক দাবি করে তিনি মজুরি পান নাই তাহলে তার মজুরি আমি দলগতভাবে আদায় করার ব্যবস্থা করবো।
আঁধারকোটা খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ও পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকিদুল বিশ্বাস জানান, পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণের নিয়মিত পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছি। আশা করি বাকি কাজ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যেই শেষ হবে।
খনন কাজে অংশ গ্রহণকারী একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা হলে, নারী শ্রমিকেরা জানান, আমাদের এলাকায় এখন তেমন কোনো কাজ নেই। এই প্রকল্পে কাজ করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে আমরা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছি। তবে পুরুষ শ্রমিকেরা জানান, বতর্মানে সবকিছুর দাম বৃদ্ধির কারনে ৫০০ টাকা মজুরিতে ৮ ঘন্টা কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন আমাদের এলাকায় তেমন কোনো কাজ না থাকায় আমরা উকৃত হচ্ছি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্র মতে, পাট্টা ইউনিয়নের আঁধারকোটা খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় হবে ১ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৫ টাকা ও যশাই ইউনিয়নের ঢেঁকিপাড়া খালের ৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৭ টাকা।
(একে/এসপি/জুন ১৮, ২০২৬)
