ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

প্রশান্ত মহাসাগরে ফের মার্কিন হামলা: নিহত ৩

২০২৬ জুন ১৯ ১৭:৫২:৫৫
প্রশান্ত মহাসাগরে ফের মার্কিন হামলা: নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চালানো এই আকস্মিক হামলায় নৌকাটিতে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন।

লাতিন আমেরিকায় কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর ও আগ্রাসী সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সর্বশেষ এই হামলার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন সামরিক হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২১১ জনে পৌঁছেছে।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে চালানো সাম্প্রতিক এসব রক্তাক্ত হামলা নিয়ে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কথিত মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বা পেন্টাগন ওই নৌকাটি আসলেই কোনো মাদক বহন করছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত মার্কিন বাহিনীর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরে আঘাত পাওয়ার পর নৌকাটিতে আগুন ধরে যাওয়ার আগে সেটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পানিতে চলছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী মাদক চক্র বা কার্টেলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একধরনের সরাসরি যুদ্ধ চলছে। তিনি এই সামরিক হামলাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের অবৈধ প্রবাহ কমানো এবং মাদক অতিরিক্ত সেবনে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর হার ঠেকানোর জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার প্রশাসন মাদক-সন্ত্রাসীদের হত্যার দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত খুব কম প্রমাণ হাজির করতে পেরেছে।

এদিকে বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা মার্কিন এই নৌ-হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ফেন্টানাইলসহ অতি প্রাণঘাতী মাদকের একটি বড় অংশ মূলত মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, যা মূলত চীন ও ভারত থেকে আসা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে সাগরে নৌকা ডুবিয়ে মাদক চোরাচালান বন্ধের এই নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

(ওএস/এসপি/জুন ১৯, ২০২৬)