প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত
ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু
আ.লীগ মানেই বাংলাদেশ, আ.লীগ মানেই বাঙালি জাতির ইতিহাস
২০২৬ জুন ২২ ১৭:৪৪:৪৪
মকিস মনসুর
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার লালসূর্য অস্তমিত হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িকও অবৈজ্ঞানিক দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত পৃথক দুটি ভূ-খন্ড নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতার আলোকে বাংলার স্বাধীনতার হারানো লালসূর্যকে ফিরে আনার দূঢ়প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাগণ দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের দিন হিসেবে এই ২৩ জুন তারিখটিই বেছে নিয়েছিলেন। ঢাকার টিকাটুলি এলাকার কে এম দাস লেনের নান্দনিক সৌন্দর্যে অতুলনীয় উন্নত রুচি ও অভিজাত দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত এক আলোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক এ দলটির জন্ম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর দলটি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম ধারণ করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে দশমবারের মতো দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
১৭ মে ২০২১-এ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার চার দশক পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্টাবার্ষিকী, বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল সহ বাংলাদেশ তথা এ উপমহাদেশের রাজনীতিতে এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, জননেতা শামছুল হককে সাধারণ সম্পাদক, এবং জেলে থাকা অবস্থায় তথকালীন তেজোদ্দীপ্ত তরুণ সংগ্রামী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করে নতুন এ দলটির জন্মের খবরে চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠি। তারা গণতন্ত্রের মানস পুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে ভারতীয় চর বলে আখ্যায়িত করে। ৪০ সদস্যের ঘোষিত ওয়ার্কিং কমিটি পাকিস্তানের শাসকদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে তীব্র গতিতে দলটিকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানের প্রকৃত অর্থেই প্রথম বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী মুসলিমলীগ ছাড়া কার্যত আর কোন দলের অস্তিত্ব ছিলো না। পরবর্তী কালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। এর পর ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য ও দলীয় মূলনীতিতে ধর্ম নিরপেক্ষতা গ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ, নামকরন করা হয়।
১৯৭০ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ঐতিহাসিক নৌকা হিসাবে টিক করা হয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার শুরু হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এই সংগঠনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং জনসাধারণের আস্থার ঠিকানা এ সংগঠনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। এই দলের জন্মলাভের মধ্য দিয়েই রোপিত হয়েছিল বাঙালীর হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ। জন্মলগ্ন থেকেই দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি দলটির নেতাকর্মীদের অঙ্গীকার ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামে ও স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দল একটি জাতির ভাষা, স্বাধীনতা এবং পতাকার জন্যে সংগ্রাম করেছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ নামক শব্দটি বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্টা লাভ করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আজও দলটি দেশের জনগণের পছন্দের শীর্ষে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানবাধিকারের সবচেয়ে বড়ো ধারক ও বাহক। এই দলটির স্বপ্ন অতীতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাত ধরে বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে। আমাদের জন্যে বাংলাদেশ শুধুই একটি মানচিত্র নয় বরং ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং তিন লক্ষ বীরাঙ্গনার সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া এক সম্পদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।প্রত্যেকটি যুদ্ধেরই একটি পটভূমি থাকে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধও ১৯৬৬ এ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা, ৬৯ এর গণ আন্দোলন. ১৯৭০ এ আওয়ামীলীগের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করা সহ কয়েকটি ঘটনার পর্যায়ক্রমিক রূপান্তর।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেয়, সেই আন্দোলনও এই যুদ্ধের পটভূমি রচনায় সহায়তা করে। ৭৭ বছরের দীর্ঘ যাত্রায়, এই দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বিরাট এক কালো মেঘ ঢেকে দেয় স্বাধীনতার আলো। বাঙালীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, বাঙালীর আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বায়ত্তশাসন সর্বশেষ স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগ তার আদর্শ এবং উদ্দেশ্যে অটল থেকেও সময়ের বিবর্তনে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ
আওয়ামী লীগ শুধু দেশের পুরনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়, এটি হচ্ছে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের মূলধারাও। প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সমাজ-রাজনীতির এ ধারাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।আমাদের প্রাণের এই সংগঠন এখন ও বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে মাতৃ-সংগঠন হিসাবে স্থান করে নিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আজকের এই লেখার শুরুতেই স্রদ্ধার সাথে স্ররন করছি ঐতিহাসিক এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাকালীল সময়ের অগ্রদূত মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জননেতা শামসুল হক. গণতন্ত্রের মানস পুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ. আবুল হাশেম. ক্ষণজন্মা পুরুষ অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান. অলি আহমদ. তাজ উদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপটেন এম মনসুর আলী, কামারুজ্জমান সহ যাদের নেতৃত্বে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুকঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নতুন প্রাণ পায় দীর্ঘদিনের পুরনো এই দলটি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজবধি ২০টি কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ ছয় জনকে সভাপতি পদে পেয়েছে আর সাধারণ সম্পাদক পদে পেয়েছে নয় জনকে।
দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে ও জাতীয় চার নেতা নিহত হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে মহিউদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন। এর পরের বছর ১৯৭৭ সালে দলের ১১তম কাউন্সিলে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করা হয়।
এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ গঠনের পর ১৯৪৯ সালে দলের প্রথম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। এরপর ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের দ্বিতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক। ১৯৮৭ সালে সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ছিলেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। এর জিল্লুর রহমান আবারও দুই মেয়াদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ সালের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল জলিল। ছিলেন ২০০৯ সাল পর্যন্ত। ওই বছর দলের ১৮তম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০তম
কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে নবম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জননেতা ওবায়দুল কাদের।
এখানে উল্লেখ্য যে পাকিস্তান সৃষ্টির ৪ মাস ২০ দিন পর ১৯৪৮ সালের ৪ টা জানুয়ারি তৎকালিন পূর্ব বাংলায় প্রথম সরকার বিরুধী ছাত্র সংগঠন ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’, আত্ম-প্রকাশ করে। বাংলাদেশের তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের উদীয়মান এক উজ্জ্বল নকত্র শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রেরণায় সংগঠিত জাতীয় আন্দোলনের মূল ধারায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালণ করে ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগ।
এদিকে ১৯৫৩ সালের ১৪-১৫ নভেম্বর ময়মনসিংহ শহরে অনুষ্ঠিত দলের বিশেষ কাউন্সিলে সাধারণ নির্বাচনে জোট গঠনের সিদ্ধান্তের পর ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৭টি আসন পায় জাতীয় তিন নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী মুসলিমলীগ একা পায় ১৪৩টি আসন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে এ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। এ নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিমলীগের শোচনীয় পরাজয় হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সব আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ ভুমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশ! আওয়ামীলীগ মানেই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলার মানচিত্র.; জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নামই নয়, একটি মুক্তির পথ, একটি বিশ্বাসের নাম। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির পথ প্রদর্শক ও জাতির মুক্তির নায়ক। যতকাল ধরে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী যমুনা মনু বহমান থাকবে, ততকাল বঙ্গবন্ধুর নাম বাঙালি জাতির অন্তরে লালিত হয়ে থাকবে চির অম্লান হয়ে। আওয়ামীলীগের ইতিহাস বাংগালী জাতির ইতিহাস. আর এই ইতিহাসের মহানায়ক হচ্ছেন,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদল সেনা অফিসারের হাতে নির্মমভাবে খুন হবার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট চার সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে এদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু ও জাতীর চার নেতাকে হত্যার পর সামরিক সরকারের শাসনামলে দমনপীড়নের মুখে ও মতের ভিন্নতায় বিভক্ত হয়ে পড়ে সংগঠনটি।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর যারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত জনগণ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে ও তাঁর নেতৃত্বের পরশে তারা আবারো জেগে ওঠার সাহস ও প্রেরণা পেয়েছিলো। ১৯৮১ সালের ১৭ মে রাজনীতিবিদ হিসাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আবার ও দেশে স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে এবং এদিন শেখ হাসিনার নামে যথার্থই জেগে উঠে বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দ্বিতীয় জন্মগ্রহণ! ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়!
৬ বছর পর, ভয়াল ঘাতকের হুমকি-ধমকি আর রক্তচক্ষু উপেক্ষা ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই 'সোনার বাংলা' বিনির্মানের মৃতপ্রায় স্বপ্ন যেন পুণর্জন্ম লাভ করে।
ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তাঁর একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনোকিছুই তাঁকে তাঁর পথ থেকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু, শত প্রতিকুলতাতেও হতোদ্যম হননি কখনো। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বারবার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন, আবির্ভুত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দেশে ফেরার ১৫ বছরের মাথায় আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে এই ৪০টি বছরে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছিলো। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছিলো বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছিলো।বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশ।
কিন্তুু দুর্ভাগা জাতির কপালে সূখ বেশিদিন টিকে রাখা সম্ভব হয়নি, তথাকথিত আন্দোলনের নামে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২০২৪ সালে আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি দেশবিরোধী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী দখলে নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। কোথাও মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম নাজুক। দেশের সর্বত্র চলছে মব সন্ত্রাস। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় চলমান বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। হাজার হাজার শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে।
সমুদ্র সৈকত কেটে বালু, নদীর পাড় ও গুরুত্বপুর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার গোড়া থেকে মাটি লুটে নিয়ে বিক্রী করে দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। জাতীয় সংসদে বসেছে মিথ্যাচার ও অশ্লীলতার মেলা। নিজের পিতৃপরিচয় নিয়েও মিথ্যা বলছে জামায়াতের সংসদসদস্য। চলছে নানা স্বেচ্ছাচার।
এদিকে শত শত শিশু মরছে হামে, সংকুচিত হয়ে আসছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা। আইনশৃংখলার অবনতিতে দুর্বিষহ মানুষের জীবন।এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোচ্চার থাকার কারণে তাদের উপর নেমে আসছে অত্যাচার-নির্যাতনের নির্মম খড়গ। নারকীয় কায়দায় হামলা-মামলা করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে বা রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ মদদে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা করছে।
অপারেশন সার্চলাইটের হিটলিস্টে একনম্বরে রাইখা আওয়ামী লীগরে নির্মূল করা যায় নাই। জাতির পিতারে হত্যা কইরা আওয়ামী লীগ নির্মূল করা যায় নাই। লাঠি গুলি টিয়ারগ্যাস, গোপন ষড়যন্ত্র, আর্জেস গ্রেনেড- কিছুতেই ঠেকানো যায় নাই আওয়ামী লীগরে। বরং প্রবল প্রতিজ্ঞায় আরো ঋদ্ধ আরো শক্তিশালী হইছে আওয়ামী লীগ। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন
বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সুতরাং আওয়ামী লীগ ছিলো, আওয়ামী লীগ আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আজ আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ ভালো নেই, চারদিকে শুধু হাহাকার, চলছে বিনা দোষে গ্রেফতার, দিন দুপুরে হচ্ছে হত্যা, ছিনতাই, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, আর মবসন্ত্রাস,
আওয়ামীলীগের নেতাকমীদের ওপর অহরহ হামলা ও বাড়িঘর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে,আজ কোটির উপরে মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া, লাখো মানুষকে বিনা বিচারে জেলের অভ্যন্তরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অনেকের এক মামলায় জামিন হলে ও অন্য মিথ্যা মামলা দেখিয়ে আবার জেলে রাখা হচ্ছে বছর কা বছর, বাঙ্গালী মূল্যবোধ আজ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এই অরাজকতা থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এবং হৃদয়ে আশ্রিত রাজনৈতিক দল
আওয়ামী লীগকেই এগিয়ে আসতে হবে। তুমি থেমে যাও তাহলে তুমি শেষ, যদি তুমি মিছিলে জন্য দাঁড়িয়ে যাও তাহলে তৈরি হবে নতুন বাংলাদেশ। ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দীপ্ত শপথ নেওয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে "খুব দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরে আনার মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের উপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ ও অসাংবিধানিক আইসিটি ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত রায়সহ সকল মামলা ও ট্রাইব্যুনাল বাতিল করতে হবে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। নাগরিক পরিষেবা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ সমুন্নত করতে হবে। দেশবিরোধী অপশক্তি, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও চেতনাকে সমুন্নত রেখে ও ধারণ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা শত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বরাবরের ন্যায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আবার ও মজবুত ভীতের উপর দাঁড় করাতে হবে। তৃণমূলের অবহেলিত কর্মীরা অতীতের মতো এবারও বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে,দেশরত্ন শেখ হাসিনা'র প্রশ্নে রনাঙ্গনে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে,কেহ জীবন দিচ্ছে,কেহ মবের শিকার হচ্ছে,কেহ কারা বরন করেছে।নির্যাতিত কর্মীরাই নির্যাতিত কর্মীদের সান্তনা দিচ্ছে। আবার ও প্রমাণিত হয়েছে দুর্দিনের কর্মীরাই সংগঠনকে আগলে রাখছে।
ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে জনগণই ছিল আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস। আজও আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে জনগণের ঐক্য, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি নিঃশর্ত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। আসুন, ঐতিহ্যময় ও সাফল্যমণ্ডিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ক্ষণে আমরা স্বাধীনতার অর্জন, গণতন্ত্রের মূল্য এবং উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নকে ধারণ করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে আবার ও বলতে চাই ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগের ইতিহাস সংগ্রাম, সৃষ্টি, অর্জন ও উন্নয়নের ইতিহাস। আওয়ামীলীগ মানেই বাংলাদেশ ; আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতির ইতিহাস ; আর ইতিহাসের মহানায়ক হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিস্বময় আজ ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ, প্রাণের বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক মানবতার।
লেখক : লেখক ও সাংবাদিক।
