প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
বিএনপি নেতার সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় হামলা ও মিথ্যা মামলা
প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ সাতক্ষীরার আমজাদ হোসেনের
২০২৬ জুন ২৪ ১৯:৩৩:৩০
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : বিএনপি নেতার পাশে দাঁড়ানো ছবির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় হামলা চালিয়ে ঘের দখল, মিথ্যা মামলা দেওয়া ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার বকচরা গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন একই এলাকার বাবর আলীর ছেলে আমজাদ আলী। সদর থানায় অভিযোগ করেছেন একই এলাকার মনিরুল ইসলাম, আশানুর রহমান ও কওছার আলী।
গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহা পুলিশ পরিদর্শক ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো অভিযোগপত্রে সাতক্ষীরা সদরের বকচরা গ্রামের আমজাদ আলী উল্লেখ করেছেন যে, একই গ্রামের কওছার আলীর ছেলে আবতাফুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বাড়ি ফিরে আসে। বিদেশী উপার্জনের প্রভাব খাটিয়ে নব্য বিএনপি নেতা সেজে জেলার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে কয়েক দফায় ছবি তোলে। ওই ছবি ব্যবহার করে এলাকায় গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনী। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় আবতাবুজ্জামান ও তার তিন ভাই তার (আমজাদ) ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে করা ঘের জবরদখল করার চেষ্টা করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আবতাফুজ্জামান ও তার তিন ভাই কামরুজ্জামান, সাইফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান বাড়িতে এসে তাকে মারপিট করে।
এ ঘটনায় আবতাফুজ্জামানের নামে নন জিআর মামলা হয়। তাকে মারপিট করার বিষয়টি ভিন্নথাতে প্রবাহিত করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবতাফুজ্জামানের ভাই কামরুজ্জামান বাদি হয়ে তাকেসহ দুই ভাইয়ের নামে আমলী আদালতে ৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করে। গত ৫ মে সকালে তার এক একর ৯ শতক মাছের ঘেরের অংশ বেড়িবাঁধ দিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। লুটপাট করা হয় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ওই দিন তিনি থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে বসাবসির ব্যাপারে কালক্ষেপন করতে থাকে আবতাবুজ্জামান।
বিপদ বুঝে পায়রাডাঙার শাহীন হত্যা মামলার আসামী আবতাফুজ্জামান ও তার লোকজন গত ৮ জুন রাতে তার (আমজাদ) ঘেরে গ্যাস চ্যাবলেট বা বিষ জাতীয় কিছু দিয়ে মাছ মেরে ফেলে তাকেসহ তিন সহোদরের নামে জমির তপশীল ছাড়াই থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ সময় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে কলারোয়ার সাংবাদিক আনিছুজ্জামানকে (অন লাইন এনটিভি) মোটা অংকের টাকা দিয়ে জবরদখলকৃত ঘেরের জমি নিজের দাবি করে গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরে ফেলার মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করায়। মিথ্যা খবর প্রকাশের জন্য ওই সাংবাদিক তাদের কাছে ক্ষমা চান। আবতাফুজ্জামানের জমি জবরদখলের বিষয়টি আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে গত ১৬ জুন রাতে পশ্চিম বকচরা কালভাটের পাশে এসকেবেটর মেশিন চালানোর সময় আবতাফুজ্জামানের নেতৃত্বে আশানুরের উপর হামলা, একই রাতে মনিরুল ও শুকুর আলীর বাড়িতে হামলা ও জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন আবতাফুজ্জামান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তবে আবতাফুজ্জামান জানান, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িতে না থাকার সূযোগে আমজাদ আলী তাদের জমি জোর করে দখল করে নেয়। তাই ওই জমি তিনি প্রশাসনের সহায়তায় দখলে নিয়েছেন। মাছ মের ফেলার ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন আমজাদসহ তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শুকুর আলী, আশানুর ও মনিরুল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক শহর আলী ও উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন বলেন, খালিদ হোসেন নামের একজনকে গত বছরের শেষের দিকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যান শুকুর আলী। কাজ না পেয়ে ফিরে এসে টাকার দাবি করে খালিদ। এ ঘটনাকে নিয়ে বিরোধের জের ধরে ১৭ জুন আবতাফুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলে বসাবসির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
(আরকে/এসপি/জুন ২৪, ২০২৬)
