ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

নড়াইলের ৬০ ভাগই কাঁচা রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে 

২০২৬ জুন ২৫ ১৪:৩২:৪২
নড়াইলের ৬০ ভাগই কাঁচা রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নিজের জীবদ্দশায় গ্রামের পাকা রাস্তায় হাঁটতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে নড়াইল সদরের বাসিন্দা মনোজিত বিশ্বাসের।

উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর চরপাড়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সি এই বৃদ্ধ বলেন, 'বাপ-দাদাদের আমল থেকে এই রাস্তা এ রকম দেখে আসছি এখনও সেই কাদা-পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে। আর জীবদ্দশায় পাকা রাস্তা দেখে যেতে পারব কিনা জানি না।”

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “ভোটের সময় অনেকে আসে, এসে এই সড়কটির করুণ অবস্থার উন্নয়ন বা সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। ভোটের পরে আর কোনো খবর থাকে না।”

তার মতো এমন আক্ষেপ আছে নড়াইল জেলার তিন উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের বাসিন্দাদেরই। কারণ এই জেলার মোট সড়কের মধ্যে ৬০ ভাগই কাঁচা সড়ক।

নড়াইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, সর্বশেষ ২০২৫ সালের অগাস্ট পর্যন্ত জেলায় আমাদের সড়ক রয়েছে ৩ হাজার ২২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা সড়ক (পিচ, আরসিসি, ইট) রয়েছে ১ হাজার ২৬৪ কিলোমিটার আর বাকি ১ হাজার ৯৬১ কিলোমিটারই কাঁচা সড়ক। অর্থাৎ জেলায় ৪০ ভাগ পাকা আর ৬০ ভাগ কাঁচা সড়ক রয়েছে।

এসব গ্রামীণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের ননীখির গ্রামের বাসিন্দা গোলক বিশ্বাস (৬৫) বলেন, “আমাদের গ্রামটি পৌরসভার সাথে লাগা হলেও আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলিত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্যান্ডেল হাতে করে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে হয়। কাদা-মাটির রাস্তা পার হয়ে পা ধুয়ে স্যান্ডেল পরে হাট-বাজারে যেতে হয়।

বিভিন্ন জনের কাছে যেয়ে ধর্না দিয়ে সামান্য একটু ইটের রাস্তা হয়েছে, এখনও অনেক কাঁচা রাস্তা রয়েছে। দ্রুত এই কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাই।

লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মণ্ডলবাগ গ্রামের বাবু মিয়া (৪৩) বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অনেক রাস্তা এখনও কাঁচা রয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে এসব কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে যায়

কালিয়া উপজেলার মাইলী ইউনিয়নের কাটাধুরো গ্রামের মিকাইল(৪৮) হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তাগুলো বৃষ্টির সময় চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিয়েও কোন ফল হয়নি।

সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর চরপাড়া গ্রামের ধনঞ্জয় কুমার (৫৫) বলেন, কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেটে আমাদের জীবন তো চলে গেলো, আমাদের আগামী প্রজন্ম কি হবে জানি না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক ৪৪৩ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ ভাগ।

লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা ৭৮৯ কিলোমিটার, পাকা ৪১০ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ ভাগ।

কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলোমিটার আর পাকা সড়ক ৩১২ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ ভাগ।

এছাড়া এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডি ভূক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকা ভূক্ত করার কার্যক্রম চলছে।

নড়াইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)র নির্বা্হী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, নড়াইল জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান আছে।

আশা করছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে কাঁচা সড়ক ৫০ শতাংশ ও পাকা সড়ক ৫০ শতাংশে আনতে সক্ষম হব, বলেন তিনি।

(আরএম/এএস/জুন ২৫, ২০২৬)