ঢাকা, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

২০২৬ জুন ২৮ ১৯:১২:৩৪
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানা মো: মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে জিন্দারকে (৬০) গ্রেফতার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত মাওলানা মো: মুস্তাফিজুর রহমান কাশিয়ানী উপজেলার ফুকুরা ইউনিয়নের সাফলীডাঙ্গা রহিমদিয়া শামসুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম। তার বিরুদ্ধে ৩ মাস ধরে একই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের প্রথম শ্রেণীর এক শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

মাওলানা মো: মুস্তাফিজুর রহমান কাশিয়ানী থানার রামদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে ২৭ জুন (শনিবার) কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোঃ মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করে জেলহাহাজতে পাঠায়। কাশিয়ানি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানাগেছে , গত ২৫ জুন সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে টিফিনের সময় অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে বিস্কুট ও চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এরপর রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান । এর আগেও একাধিকবার একই কায়দায় শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে লাশ করে কবরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন ওই শিক্ষক।

শিশুটির মা বলেন, “গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৩টার দিকে আমার মেয়ে বাথরুমে কান্নাকাটি করার পর রান্নাঘরে এসে বলে, "মা, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি।" তখন আমি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, শুক্রবার ২৫ জুন টিফিনের সময় আমার মেয়েকে মাদ্রাসার মোহতামিম বিস্কুট ও চকলেটের কথা বলে তার অফিস রুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে এবং গত তিন মাস ধরে তাকে নিয়মিত নির্যাতন করে আসছেন।

শিশুটির মা আরো জানান, এছাড়াও তিনি মেয়েকে হুমকি দিয়েছেন "যদি কাউকে কিছু বলিস, তাহলে এই লাঠি দিয়ে তোমার মাথা ফাটিয়ে মেরে মাদ্রাসার পাশের কবরস্থানে পুতে দেব।" তাই ভয়ে এতদিন মেয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু শুক্রবার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমাকে বলেছে। আমি অপরাধীর সর্বচ্চ শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে কাশিয়ানি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, সাফলীডাঙ্গা রহিমদিয়া শামসুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শনিবার (২৭ জুন) শিশুটির মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ওই দিনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামী মাওলানা মো: মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে জিন্দারকে (৬০) গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গতকাল ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে বলেও পুলিশের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

(টিবি/এসপি/জুন ২৮, ২০২৬)