ঢাকা, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

নেপথ্যে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখল

ভাঙ্গায় দু'পক্ষের ১৬ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত কমপক্ষে ৫০

২০২৬ জুন ২৮ ১৯:১৬:৩৩
ভাঙ্গায় দু'পক্ষের ১৬ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত কমপক্ষে ৫০

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলে দু'পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র স্থানীয় ১৬ গ্রামবাসী দুই ভাগে ভাগ হয়ে তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

আজ রবিবার সকালে উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের একপক্ষে ১১ গ্রাম ওপর পক্ষে ৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক ৪ ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

দুপুর দুইটার দিকে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গার হামেরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের সঙ্গে পাশের একই উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে মারপিট করার অভিযোগে রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের লোকজন পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে চড়াও হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অপরপক্ষের লোকজন পাল্টা চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরে, সময় বাড়ার সাথে সাথে দুই পক্ষের লোকজনের সংখ্যা বাড়তে থাকে ও সংঘবদ্ধ হয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর, সকাল পৌনে ১০ টার দিকে আবারও দু'পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয়পক্ষ একে অপর পক্ষের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।

সকাল ১০ টা থেকে তারা ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে এবং মহাসড়কে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় উভয় পক্ষে প্রচুর মানুষের উপস্থিতি ঘটে। বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত তাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ থামার পর সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসতে এবং মহাসড়কটি যান চলাচল চালু করতে বেলা দুইটা বেজে যায়। যার ফলে, সকাল ১০টা থেকে টানা ৪ ঘন্টা পর মহাসড়কটির যান চলাচল শুরু স্বাভাবিক হয়।

এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, একাধিক সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা রয়েছে।

এ সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয়রা জানায়, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের দলপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষটি ঘটেছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এ সংঘর্ষে প্রাণহানী এড়াতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’

ওসি মিজানুর আরও জানান, 'এ সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

(আরআর/এসপি/জুন ২৮, ২০২৬)