ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

কেইনের জোড়া গোলে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

২০২৬ জুলাই ০২ ০০:৩৮:১৬
কেইনের জোড়া গোলে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক : ৭৫ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ড বুঝি এবার বিদায় নেবে! কিন্তু ডিআর কঙ্গো শেষ পর্যন্ত পারলো না। হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে আফ্রিকান দেশটিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে গেলো থ্রি লায়ন্সরা।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব-৩২-এ এক সময় বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৭ম মিনিটেই পিছিয়ে পড়া থ্রি লায়ন্সরা শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিআর কঙ্গোকে। এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে টমাস টুখেলের দল।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চমকে দেয় ডিআর কঙ্গো। মাত্র সপ্তম মিনিটেই চ্যান্সেল এমবেম্বার দারুণ লম্বা পাস বাম প্রান্তে পেয়ে যান ব্রায়ান সিপেঙ্গা। ইংলিশ রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে সিপেঙ্গার প্রথম গোল, আর সেটিই আসে বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে।

প্রথম গোল হজমের পর কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ডিআর কঙ্গোর দ্রুতগতির আক্রমণ ও ড্রিবলিংয়ে বারবার বিপাকে পড়ে থ্রি লায়ন্সদের রক্ষণ। ১৯তম মিনিটে হতাশা থেকে কঠিন ট্যাকলে হলুদ কার্ড দেখেন জুদ বেলিংহ্যাম।

ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ৩০তম মিনিটে ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রসে বেলিংহ্যামের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। ৩৫তম মিনিটে ননি মাদুয়েকের দারুণ ক্রস থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের নিশ্চিত গোলও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ডিআর কঙ্গো। ৪২তম মিনিটে ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে ইয়োয়ান উইসার প্রথম ছোঁয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহ্যামের হেড এবং হ্যারি কেইনের ভলিও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমপাসি। এছাড়া কেইনকে ঘিরে সম্ভাব্য পেনাল্টির আবেদন ভিএআরে যাচাই হলেও রেফারি সিদ্ধান্ত বদলাননি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ডিআর কঙ্গো।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ান টুখেল। ৬১তম মিনিটে বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনকে মাঠে নামিয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন ইংল্যান্ড কোচ।

পরিবর্তনের ফল মিলতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ৭৫তম মিনিটে বাম দিক থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার ভাসানো ক্রসে হ্যারি কেইন দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর গোল পেয়ে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ইংল্যান্ড।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় থ্রি লায়ন্সরা। ৮৬তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। ডিআর কঙ্গোর একটি আক্রমণ ভেস্তে দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। বেলিংহ্যামের শট প্রথমে গোলরক্ষক এমপাসি ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি আক্রমণে গর্ডনের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শক্তিশালী শটে বল জালে জড়ান কেইন। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার পঞ্চম গোল।

বাকি সময়ে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় ডিআর কঙ্গো। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামের ফাউলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেলেও উইসার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

শুরুতে ধাক্কা খেলেও অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইনের অনবদ্য নৈপুণ্যে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

(ওএস/এএস/জুলাই ০২, ২০২৬)