ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ টকটকে করমচা 

২০২৬ জুলাই ০২ ১৪:৪৮:০৬
পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ টকটকে করমচা 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : করমোচা একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। করমচা অত্যন্ত টক স্বাদের এবং ছোট আকৃতির একটি মুখরোচক ফল।

কাঁটায় ভরা এ ফলটি গ্রাম থেকে এখন শহরে চাষ করা হয়। প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি করমোচা গাছের পাতা ও ফলে নান্দনিক ছোঁয়া থাকায় ফল প্রাপ্তির পাশাপাশি বাড়ির বা বাড়ির বাইরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য অনেকে করমোচা গাছ রোপণ করেন। ইদানীং শহরে বাড়ির ছাদ কিংবা বারান্দায় অনেকেই শখের বশে করমোচার চাষ করে থাকেন।

করমচা ফলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিসা ক্যারান্ডাম। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় সমতল ভূমিতে করমচা চাষ করা যায়। এক সময় গ্রামাঞ্চলে করমোচা গাছে প্রচুর ফলন হতো। কিন্তু আশির দশকের পর থেকে দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন, নগর ও শহরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি জনিত কারণে বাড়িঘর নির্মাণ এবং নির্বিচারে বন জঙ্গল উজাড় হওয়ার কারণে গ্রামাঞ্চলেও আগের মতন করমোচা গাছ চোখে পড়ে না। তবে করমোচা গাছ বা করমোচা ফল বিলুপ্ত হয়ে যায় নাই। শহরাঞ্চলে কম হলেও গ্রামাঞ্চলে হরহামেশাই চোখে পড়ে করমোচা গাছের।

ঔষধী গুনাগুন সম্পন্ন করমোচা গাছ বা ফল নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা তাঁদের রচনাকে সমৃদ্ধ করেছেন। একজন ছড়াকার লিখেছেন, 'আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দেব মেপে/ লেবুর পাতায় করমোচা যা বৃষ্টি ঝরে যা।'

করমচা গাছে ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং ফল ধরে এপ্রিল-মে মাসে। বর্ষায় করমচা ফল পাকে। করমচা কাঁচা ফলটি দেখেতে সবুজ, কিন্তু পরিণত অবস্থায় ম্যাজেন্টা লাল রং ধারন করে বিধায় সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি ফল।

দেশের গ্রামাঞ্চলে রাস্তার পাশে, বাড়ীর আঙিনায় খুব ঘন কাঁটাযুক্ত এ ফল গাছটি বেশির ভাগ সময় প্রাকৃতিক ভাবেই জম্মায়। মাটিতে বিস্তৃত গুল্মজাতীয় এই উদ্ভিদটি কষ্টসহিষ্ণু এবং খরা সহনশীল।

করমোচা গাছ এশিয়া, আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে দেখতে পাওয়া যায়। ঔষধি গুণাবলি ও পুষ্টিগুণে অতুলনীয় করমোচা ফলে রয়েছে, প্রচুর এনার্জি, কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট,প্রোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, রিবোফ্লেভিন, নিয়াসিন, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম যাহা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নানা ভাবে সহায়তা করে থাকে।

করমচা খেলে শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হূদরোগের ঝুঁকি কমায়, যকৃত ও কিডনীর রোগ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতেও ভাল কাজ করে। ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীদের জন্য করমচা খাওয়া অনেক বেশি উপকারী। মৌসুমী সর্দি-জ্বর নিরাময়ে, স্কাভি, দাঁত ও মাঢ়ির নানা রোগ প্রতিরোধে করমচা খেলে অত্যন্ত সুফল পাওয়া যায়।

প্রকৃতির অনবদ্য অহংকার করমোচা গাছে কিংবা ফলে শুধু নান্দনিকতার ছোঁয়াই নেই ; আছে পুষ্টিগুনের সমাহার।

(আরএম/এএস/জুলাই ০২, ২০২৬)