প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
২০২৬ জুলাই ০২ ১৯:১০:৫৬
আহমেদ ইসমাম, ঠাকুরগাঁও : পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় একটি সমবায় সংস্থা। "আলো ঘরে ঘরে, প্রগতি দেশে দেশে" এ স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও 'ভূতুড়ে' বিল আদায়, টেন্ডারে অনিয়ম এবং দীর্ঘ লোডশেডিং ও ঠিকাদার নিয়োগ বানিজ্যের মত নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়মের জেরে অতীতে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সাথে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধেও গ্রাহকরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তকরণ ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, গোপনীয়তা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাহিরের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা দুর্নীতির কারনে একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে গ্রামীন জনগণের সেবায় নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটি অপরদিকে কাজেও গতি হারা্েচ্ছ সরকারের "আলো ঘরে ঘরে"বাস্তবায়িত প্রকল্পটি।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, তদবির এবং একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর থেকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিয়ে চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। ডিজিএম কারগিরী লুৎফুল হাসান থেকে শুরু করে সহকারী জেনারেল র্মানেজার নাহিদ ইসলাম ও সাবেক জিএম আসাদুজ্জামান খান এর নামও উঠে আসছে সিন্ডিকেটের নামের তালিকায়।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে স্বল্প দৈর্ঘ্য, লাইন নির্মাণ, রক্ষনাবেক্ষন ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বের তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ তাহাদের পছন্দমতো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে বাধার সৃষ্টি করে। তালিকাভুক্তির ১৭২টি আবেদনের বিপরীতে আগের জিএম আসাদুজ্জামান খান প্রথমে ৩১টি এবং পরবর্তীতে আরো ৮টি সহ মোট ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তভৃুক্ত করে যাদের অধিকাংশই জেলার বাহিরের এবং অনেক দূরের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠলে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম একটি নির্দেশনা দিলেও তা অমান্য করে সম্প্রতি গোপনেই ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের নাম চুরান্ত করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
অবৈধ উপায়ে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের গুটিকয়েক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্তির কারণে ভোগান্তিতে পড়বে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুইটি জেলা অথ্যাৎ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সাধারণ জনগণ । সিন্ডিকেট সহ গুটিকয়েক এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি থাকবে দুই জেলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ।
আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ভুক্তভোগী এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমি স্বচ্ছতার সাথে অনেক বছর ধরেই এ প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করে আসছি। কোনদিন কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হইনি। এবারো নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ করে সব কাগজপত্র জমা দেই। আমাকে বাদ দিয়ে দূরের জেলার কোন প্রতিষ্ঠান কিভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা আমার জানা নেই। সহকারী জেনারেল র্মানেজার (এজিএম ই এন্ড সি) নাহিদ ইসলাম আমাকে বড় বিএনপি নেতার সুপারিশ আনতে বলেন। তারপর নাকি কিছু করা যেতে পারে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী জেনারেল র্মানেজার (এজিএম ই এন্ড সি) নাহিদ ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান এবং ডিজিএম (কারগিরী) লুৎফুল হাসান সরকারের কাছে বছরের পর বছর একই জায়গায় কর্মরত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজের পারফরমেন্স এর জন্যই হয়তো উপর থেকে আমাকে বারবার এখানে রেখেছে। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের সার্কুলারটা অতীত এবং আগেই ক্লোজ হয়ে গিয়েছে। ১৭২ আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩৯ টি প্রতিষ্ঠান ইনলিস্টেট হয়েছে। অতীতে কিভাবে কি হযেছে তা আমার জানা নেই। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাচাই বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বা বাছাই কমিটির পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দেননি।
(এআই/এসপি/জুলাই ০২, ২০২৬)
