ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শিমুলিয়া ঘাটে আধা কিলোমিটারে দুই টোল: পর্যটন ধ্বংসের ‘ব্যবসা’ নাকি উন্নয়ন?

২০২৬ জুলাই ০২ ১৯:৩৭:০৩
শিমুলিয়া ঘাটে আধা কিলোমিটারে দুই টোল: পর্যটন ধ্বংসের ‘ব্যবসা’ নাকি উন্নয়ন?

মোঃ মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : বিআইডব্লিউটিএ উন্নয়নের নামে সাধারণ জনগণ আর পর্যটকদের পকেট কাটার এক অভিনব উৎসব শুরু হয়েছে লৌহজংয়ের ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে। ছলে-বলে-কৌশলে জনসাধারণের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই নতুন ফন্দি ক্ষুব্ধ করে তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ এই পর্যটন স্পটে আসা দর্শনার্থীদের।

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে শিমুলিয়া ঘাট এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন একটু নিশ্বাস নিতে, ইলিশের স্বাদ মেটাতে। কিন্তু এখন সেই ঘাটে যাওয়া মানেই পকেটের টাকা খোয়ানো।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিমুলিয়া ঘাটে যেতে এখন দুই জায়গায় টোল দিতে হচ্ছে: রাস্তার টোল: প্রজেক্ট হিলসা বা হাসিনার মোড় থেকে ঘাট পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটারেরও কম রাস্তা ব্যবহারের জন্য প্রথমবার গুনতে হচ্ছে টোল। পার্কিং টোল: একটু ভেতরে ঢুকলেই বিআইডব্লিউটিএ-এর পার্কিংয়ের নামে দ্বিতীয়বার দিতে হচ্ছে আরেক দফা টোল।

মাত্র আধা কিলোমিটারের ব্যবধানে একই গাড়ির ওপর দুইবার টোলের বোঝা চাপানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভে সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে উপহাস করে বলছেন, "আমরা আসলেই 'বিদেশ' হয়ে যাচ্ছি, যেখানে পা বাড়ালেই শুধু ট্যাক্স আর টোল!"

অভিযোগ উঠেছে, বিআইডব্লিউটিএ পার্কিংয়ের নামে ঘাটটিকে ইজারা দিয়ে ইজারাদারদের মাধ্যমে স্থানীয় ছোট-বড় দোকানপাট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একদিকে ইজারাদারদের জুলুম, অন্যদিকে দ্বৈত টোল নীতি সব মিলিয়ে এক হাহাকার পরিস্থিতি।

ভোক্তা ও পর্যটকদের দাবি, এই অযৌক্তিক দ্বৈত টোলের কারণে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস নামবে। সাধারণ মানুষ বিনোদনের জন্য এসে যদি শুরুতেই এভাবে পকেট কাটার শিকার হয়, তবে তারা এই মুখী হওয়া বন্ধ করে দেবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় কয়েক শ’ ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের ওপর।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের মুখে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন একটি আলোচনা সভা ডাকে। বিএইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা আলোচনা সভায় জানান, এটি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কিছু করার নেই। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আমাকে অনুসরণ করতে হবে। দুই জায়গায় বৈধ টোলই নেয়া হচ্ছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছে, ঘাট ও রাস্তাটি বিআইডব্লিউটিএ’র। তাই তারা ইজারা দিয়ে টোল আদায় করছে।

এদিকে জনগণের স্পষ্ট কথা উন্নয়নের দোহাই দিয়ে আধা কিলোমিটারের রাস্তায় এই পকেটমারি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে এই অযৌক্তিক দ্বৈত টোল প্রথা বাতিল করতে হবে। পর্যটন খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সচেতন মহল।

(এমকে/এসপি/জুলাই ০২, ২০২৬)