প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
‘জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই’
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৪:১৫:২৯
স্টাফ রিপোর্টার : জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’
রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার সেবানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। তাই একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে, নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানের শুরুতে পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পিজিআরের সদস্যরা আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহস ও দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার জীবনের ‘সবচেয়ে শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক’ ঘটনা হিসেবে তার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করার সময় কর্তব্যরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হন। তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাদের নির্মম মৃত্যু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তায় অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা পিজিআরের সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
পিজিআরের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করে। পরে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ইউনিটটির নাম ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ রাখেন। তার ভাষ্য, এই নতুন নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী ও গতিশীল করেছে। তিনি বলেন, পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক নাম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা ও মা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় কিশোর বয়স থেকেই পিজিআরের কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি পরিচিত। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালনও পিজিআরের অন্যতম কর্তব্য। এসব দায়িত্ব পালনে সদস্যদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা বাহিনীটিকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ইস্পাত-কঠিন দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।
(ওএস/এএস/জুলাই ০৫, ২০২৬)
