ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শ্যামনগরে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণবাহি ও বিএনপি’র গাড়ি বহরে হামলা মামলা, আওয়ামী লীগের ১০ নেতা কর্মী কারাগারে

২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:৩৪:৪৪
শ্যামনগরে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণবাহি ও বিএনপি’র গাড়ি বহরে হামলা মামলা, আওয়ামী লীগের ১০ নেতা কর্মী কারাগারে

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ২০২০ সালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখাশোনা, খোঁজখবর নেওয়া ও ত্রাণ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতা কর্মীদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দ্ইুজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১০জন নেতা কর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ সাঈদুর রহমান উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামীরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর গ্রামের সৈয়দ আলী গাজীর ছেলে ও নূরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, তার ভাই হাবিবুর রহমান হবি, একই উপজেলার বংশীপুর গ্রামের মহসিন গাজীর ছেলে জাহিদ হোসেন, সোলায়মান গাজীর ছেলে রায়হান কবীর, আজাদ গাজীর ছেলে সোলায়মান গাজী, সুরমান গাজীর ছেলে শহীদুল গাজী ,তার ভাই শফিউল্লাহ, বংশীপুর গ্রামের আজাদ গাজীর ছেলে ও ঈশ^রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড, শোকর আলী, তার ভাই আব্দুল কাদের ও কাশেম গাজীর ছেলে মোজাম গাজী।

গত ১৯ মার্চ শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের আবুল হোসেন সরদারের ছেলে বিএনপি কর্মী আজিজুল ইসলামের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্ফানে শ্যামনগর থানা এলাকার জনসাধারণের ঘরবাড়ি, ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়। উক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের দেখাশুনা, খোঁজখবর নেওয়া ও ত্রাণ দেওয়ার জন্য ২০২০ সালের ২১ জুন সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রাইভেট, মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাসযোগে শ্যামনগর থেকে কাশিমাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। গাড়িবহরটি কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালি ব্রীজের উপর পৌঁছালে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম জগলুল হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলন, নূরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. শোকর আলী, অ্যাড. জহুরুল হায়দারসহ বেশ কিছু লোকজন লোহার রড, দা, লাঠি ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় বাদি, বিএনপি নেতা বাধঘাটার শেখ শাহারিয়ার মাসুদ, যাদবপুরের রাসেল, ইসমাইলপুরের মোক্তার হোসেন, শ্রীফলকাটির আনিসুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। ৫ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী ও ঔষধ নষ্ট করা হয়। এশটি প্রাইভেট কার, ১০ টি মটর সাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। এ ঘটনায় জিএম জসলুল হায়দারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এজাহারে উল্লেখিত বখতিয়ার আহম্মেদ, তার ভাই হাবিবুর রহমান হবি, জাহিদ হোসেন, রায়হান কবীর, সোলায়মান গাজী, শহীদুল গাজী ,তার ভাই শফিউল্লাহ, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড, শোকর আলী, তার ভাই আব্দুল কাদের ও মোজাম গাজী ক্রিমিনাল মিস কেস ২২৩৫৭/২৬ ও ২২৩৫৯/২৬ মূলে মহামান্য হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারপতিদ্বয় যথাক্রমে কেএম জাহিদ সরোয়ার ও শেখ আবু তাহের গত ১১ মে তাদের আট সপ্তাহের জন্য অন্তবর্তীকালিন জামিন দিয়ে নিধারিত তারিখের মধ্যে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ি তারা সোমবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ সাঈদুর রহমানের আদালতে আইনজীবী অ্যাড. আবু বক্কর ছিদ্দিক এর মাধ্যমে হাজির হন। বিচারক আসামীপক্ষের জামিন আবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি শোনার একপর্যায়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন ১০জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীর জামিন নামঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

(আরকে/এএস/জুলাই ০৭, ২০২৬)