ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

টানা বর্ষণে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি, পাহাড় ধসে চার ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

২০২৬ জুলাই ০৭ ১৯:১৩:১১
টানা বর্ষণে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি, পাহাড় ধসে চার ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

রিপন মারমা, কাপ্তাই :টানা তিন দিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর বাড়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বর্ষণ জনজীবনে দুর্ভোগও ডেকে এনেছে; পাহাড় ধসের কারণে আজ সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৪টি ইউনিট সচল রেখে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক আহমেদ জানান, উৎপাদিত ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ১নং ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট, ২নং ইউনিটে ৩৪ মেগাওয়াট, ৪নং ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট এবং ৫নং ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৭৯ দশমিক ৯ ফুট এমএসএল (মিনসি লেভেল)। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, ২৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্রে পানির স্তর ১০৯ ফুট এমএসএল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে স্বস্তি ফিরলেও টানা বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ সকালে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ভোর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

(আরএম/এএস/জুলাই ০৭, ২০২৬)