প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
২০২৬ জুলাই ১১ ০০:৩০:৩৬
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে স্বপ্না বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কানাইপুরের মালাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা করা হয়।
নিহত স্বপ্না বেগম স্থানীয় জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের ভাড়াটিয়া ও মিল শ্রমিক রাজিব শেখ (৩২) এর সহধর্মিণী এবং প্বার্শবর্তী কাশিমাবাদ গ্রামের আলাউদ্দিন খানের মেয়ে।
সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানা যায়, গত ৭ বছর আগে রাজিব-স্বপ্না দম্পত্তির বিবাহ হয় ও বর্তমানে তাদের দু’টি সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকে স্বপ্না বেগম স্বামীকে নিয়ে কাশিমাবাদে তাঁর বাবার বাড়িতে থাকতেন। মাত্র ১৩ দিন যাবত বর্তমানের ভাড়া বাসায় উঠেছেন তারা।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জানান, এ দম্পতির মধ্যে প্রায়শই ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বেশকিছু বিচার শালিস হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. মোতালেব শেখ জানান, 'এক নারী গলার ফাঁস দিয়ে মারা গেছে শুনে এসেছি। তবে, পূর্বে থেকে এ দম্পতি'র মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিলোনা। বিগত কয়েক বছরে কমপক্ষে দুইবার কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে এদের নিয়ে বিচার শালিস হয়েছে। তবে, আজ কি হয়েছে সেটা এখনও জানতে পারিনি।'
ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে নিহতের স্বামী রাজিব শেখ জানান, শুক্রবার সকালে আমার বোন ও বোন জামাইয়ের পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে বাবার সাথের কথা বলার পর ওই বিষয়গুলো নিয়ে স্বপ্নার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। তবে আমি ধমক দিয়ে গালাগালি করলেও তার গায়ে হাত দেয় নাই। এরপর খাওয়াদাওয়া করপ আমি বের হয়ে যাই। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি এসে দেখি স্বপ্না গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে'। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রাজিব শেখ তাদের পারিবারিক কলহের কথা স্বীকার করে জানান, 'তার (স্বপ্না) সাথে আমার যতো ঝগড়া হয়েছে, তা আমার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে হয়েছে। আমি যেখানে যেতে নিষেধ করি, যাদের সাথে মিশতে নিষেধ করি, সে যখন সেটা করে তখন ঝড়গা হয়। এর বাইরে কোনো সমস্যা ছিলো না। কেনো এতো ঝগড়া হতো, স্বপ্নার সাথে কি কারও সাথে অবৈধ বা পরকিয়ার সস্পর্ক ছিলো কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রাজিব চুপ থাকেন এবং কোনো উত্তর দেননি।
ঘটনাস্থল থেকে কোতয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এছাড়া, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
(আরআর/এএস/জুলাই ১১, ২০২৬)
