প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
‘টমটমে’ স্বাবলম্বী হচ্ছেন হাজারো বেকার যুবক
২০২৬ জুলাই ১১ ১৭:৫২:১১
বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : একসময় এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের অন্যতম বাহন ছিল ঘোড়ায় চালিত টমটম। সময়ের পরিবর্তনে সেই বাহন এখন শুধু ইতিহাস। তার জায়গা দখল করেছে চীনে তৈরি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার বাহন টমটম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এ যানবাহন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় গণপরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে এতে করে প্রায় হাজার খানেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলা সহ সান্তাহার পৌর এলাকায় প্রতিদিন শত শত ব্যাটারিচালিত এই টমটম চলাচল করছে। অল্প ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কারণে যাত্রীদের কাছে যানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক বেকার যুবক টমটম চালিয়ে এখন স্বাবলম্বী জীবন গড়ে তুলছেন।
উপজেলা সদরের মাঝিপাড়া গ্রামের টমটমচালক অপূর্ব কুমার সরকার বলেন, এই গাড়ি চালাতে জ্বালানি তেল লাগে না। ফলে কালো ধোঁয়া নির্গত হয় না এবং শব্দও খুব কম। প্রতিদিন কাজ শেষে রাতে ব্যাটারি চার্জ দিলেই চলে। তবে বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম। যাত্রীরাও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এই বাহনকে বেছে নিয়েছেন।
আদমদীঘি-আবাদপুকুর সড়কে চলাচলকারী আরেক চালক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, কোনো কর্মসংস্থান না পেয়ে ঋণ নিয়ে একটি টমটম কিনেছি। এখন প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করি। এই আয়েই পরিবারের ভরণ-পোষণ ভালোভাবে চলছে।
আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন। প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল, লোকাল ও মালবাহী মিলিয়ে প্রায় ৪০টি ট্রেন এ জংশনের ওপর দিয়ে চলাচল করে। আশপাশের প্রায় ১০টি উপজেলার বিপুল সংখ্যক যাত্রী সান্তাহার রেলস্টেশন দিয়ে চলাচল করেন। স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত টমটম। বর্তমানে শুধু সান্তাহার শহরেই প্রায় ৫০০টির বেশি টমটম চলাচল করছে।
সান্তাহারের পূর্ব ঢাকা রোড এলাকার অটো ট্রাস্ট পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী নিপেন্দ্র সরকার নিপেন বলেন, চীনে তৈরি ব্যাটারিচালিত টমটম আমদানি করে কিস্তির সুবিধায় বেকার যুবকদের কাছে বিক্রি করছি। এতে অনেক তরুণই নিজস্ব আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ব্যাটারিচালিত টমটম আদমদীঘির পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে, তেমনি বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে চালকদের দাবি, এই যানবাহনকে আইনগত স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত রোড পারমিটের আওতায় আনা হলে তারা আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
(বিএস/এসপি/জুলাই ১১, ২০২৬)
