প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
ভাঙ্গায় বাস চাপায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে
২০২৬ জুলাই ১২ ০০:৩৩:০৬
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সুয়াদী এলাকায় উল্টে থাকা একটি ডিমবোঝাই ট্রাককে উদ্ধারের সময় যাত্রীবাহী নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহন বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি বাস, পিকআপ ভ্যানটির উদ্ধার কার্যক্রম দেখতে রাস্তায় জড়ো হওয়া উৎসুক জনসাধারণের ওপর দিয়ে তুলে দেয়।
বাসটির সজোরে ধাক্কায় এ সময় ঘটনাস্থলে চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- ১। ওবায়দুল শেখ (৪৫), পিতা- আবু শেখ, ২। জয়নাল মিয়া (৩২), পিতা-লিটন মিয়া, ৩। নুর নবী শেখ (১২), পিতা- তুহিন শেখ, সর্বসাং- সুয়াদি, থানা- ভাঙ্গা, জেলা- ফরিদপুর, ৪। হাফিজুর রহমান (৩৫), পিতা-কুদ্দুস মাতুব্বর, সাং-শংকরপাশা, থানা-নগরকান্দা, জেলা-ফরিদপুর এবং ৫. ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার রেকার গাড়ির সহযোগী জালাল হোসেন (৪০)।
এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪/৫ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম 'দৈনিক বাংলা ৭১'কে বলেন, 'হাসপাতালে আনার পর জালাল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন'। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান ডা. তানভীর।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলমান রয়েছে'।
এরআগে, এ দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহন ও দুর্ঘটনা কবলিত ডিমের পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া এ সময় ওই এলাকায় আটকে থাকা ১৫/২০ টি পরিবহন ভাংচুর করে এবং কয়েকটিতে আগুন দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। সন্ধ্যা ৭টা হতে রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উক্ত মহাসড়কের সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এ মহাসড়কটিতে চলাচল করা যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশের সাথে কাজ করছে ভাঙ্গা থানা পুলিশের সদস্যরা। এ রিপোর্ট পাঠানোর আগে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, রাস্তা থেকে কয়েকটি যান পরিবহন সরিয়ে দিলেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে, যার কাজ চলমান রয়েছে। এ দুর্ঘটনার বিষয়ে ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে আইন শৃংখলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর।
এছাড়া, এ দুর্ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ বলেও জানিয়েছেন ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা ও ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপরোক্ত দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
(আরআর/এএস/জুলাই ১২, ২০২৬)
