ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » আইন আদালত » বিস্তারিত

 

জামিনের পর ফের গ্রেফতার সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতি

২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:৫০:৪৩
জামিনের পর ফের গ্রেফতার সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতি

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারো একটি হত্যা মামলায় শোন গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।আজ সোমবার সাতক্ষীরা অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অনাথ মিত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নং ৪০৩/২৪ ধারা- দন্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ২৫, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ধারা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১ জুন ২০২৫ তারিখে পুনরায় তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ৪৪, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ জিআর ৯৬/২৫ ধারা- ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/৩৮০/৫০৬ দন্ডবিধি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে শোন এ্যারেস্ট করা হয়। ১১ জুন ২০২৫ তারিখে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আসামী করে সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নং ২০, জিআর ২৭৮/২৫ ধারা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলা দায়ের করা হয় এবং ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে তাকে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতির পক্ষে অ্যাড. আল মাহামুদ পলাশ জানান, গত ৩ জুন ২০২৬ মহামান্য হাইকোর্ট সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সর্বশেষ মামলায় জামিন প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোটের আ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগীতের আবেদন জানালে নো-অর্ডার হয়। গত ১০ জুন ঐ মামলায় জামিননামা সম্পাদনের পর ১৩ জুন তাঁকে পুনরায় জিআর ৩৯৯/২৪ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দন্ডবিধি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়।

অ্যাড. পলাশ আরো জানান, ২০২৬ সালের ২৫ জুন সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৩৯৯/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁকে পুনরায় জিআর ৪০২/২৪ ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ দন্ডবিধি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। তিনি জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬, সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৪০২/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নং ৪০৩/২৪ ধারা- দন্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে মোঃ ইমাদুল হক। সাতক্ষীরা তৎকালীন এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী গত ২৮ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে সাতক্ষীরা ১ নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের আদেশে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত করা হয়।

মামলায় বাদী জানায়, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। অপরদিকে ১ থেকে ৬ নং আসামী পুলিশে কর্মরত এবং অন্যান্য আসামীরা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এজাহারনামী ৩২জন আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন ৩টি কালো মাইক্রোবাস যোগে বাদীর ভাই শহিদুল ইসলাম এর বাড়ীতে আসে এবং তাকে জোরপূর্বক টানা হেছাঁড়া করে মাইক্রোতে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গভীর রাতে থানা থেকে যশোর পিকনিক কর্ণারের সামনে নিয়া যায়। সেখানে ১/২ নং আসামীর নির্দেশে ৩/৪/৫/৬ নং আসামী ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে গুলি করে। ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে বুকে পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাতে ঝাঝরা করে হত্যা করে লাশ পিকনিক কর্ণানের সামনে ফাঁকা স্থানে রেখে চলে যায়।

মামলায় বাদী আরো জানান, বিষয়টি তৎকালীন থানায় ইউডি মামলা রুজু পূর্বক ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়া ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করা হয়। লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ঘটনাটি ধামা চাপা দেন। ভিকটিম শহিদুল ইসলাম এর পরিবার পক্ষ তৎকালীন সময় হত্যা মামলা করার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় গেলে থানা মামলা নিতে অস্বীকার করে এবং বাদীকে মৃত্যুর হুমকি দেখায়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় কাগজপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে স্বাক্ষীদের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

তবে শহীদুল হত্যা মামলায় সাবেক সাংসদ লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক অনাথ মিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, যাকে তাকে পুলিশ তার ভাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবে এটা ঠিক না। কারণ মামলা দায়ের করার সময় তিনি জেনে শুনেই নাম উল্লেখ করেছেন। তাহলে লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ব্যাপারে কেন তার মতামত নেওয়া হলো না সেটা তার বোধগম্য হয়নি। জানতে চাইলে তদন্তকারি কর্মকর্তা কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি। তাছাড়া এজাহার বহির্ভূত কোন আসামীর নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হলে তিনি তা মেনে নেবেন না। কারণ সরকার পরিবর্তন হলে এসবের প্রতিশোধ নিতে তাকেও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হলে পুলিশ কি জবাব দেবে?

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অনাথ মিত্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

(আরকে/এসপি/জুলাই ১৩, ২০২৬)