ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বিস্তারিত

রাষ্ট্র সংস্কারের হালচাল

৫ আগস্টের আকাঙ্ক্ষা বনাম বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের রূঢ় বাস্তবতা

২০২৬ জুলাই ১৪ ১৭:৫৩:৪৬
৫ আগস্টের আকাঙ্ক্ষা বনাম বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের রূঢ় বাস্তবতা

আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু


বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জেলায় অবিরাম বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের যৌথ প্রভাবে এক চরম আশঙ্কাজনক ও নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ সাতটি জেলায় ইতোমধ্যে ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে; ১০ লক্ষাধিক মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ২ লক্ষ ৬৭ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চলই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রধান শহরগুলোতে নামমাত্র বৃষ্টিতেই তৈরি হওয়া চরম জলাবদ্ধতা জনজীবনকে সম্পূর্ণ স্থবির করে দিয়েছে। সড়কগুলো পানির নিচে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সামগ্রিক যোগাযোগ অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের বুকফাটা হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে—খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, মাথা গোঁজার মতো শুকনো কোনো আশ্রয়ও অবশিষ্ট নেই। মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ সাধ্যমতো উদ্ধারকাজ চালালেও প্রশাসনের চরম সমন্বয়হীনতা, আমলাতান্ত্রিক জড়তা ও দূরদর্শিতার অভাবে অনেক দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এই বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসকে কেবল ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বা ‘জলবায়ুর পরিবর্তন’ বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি মূলত রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পচন এবং নীতিনির্ধারকদের চরম জবাবদিহিতাহীনতার এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বাস্তব সত্য হলো, ৫ই আগস্টের political পটপরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত যারা ক্ষমতার কেন্দ্রে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের চরম অযোগ্যতা, অদূরদর্শিতা এবং জনবিচ্ছিন্ন নীতিই আজ লাখ লাখ মানুষকে এই ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতা ও শাসনের পালাবদল ঘটলেও জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং রাষ্ট্রযন্ত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অপরাজনীতি ও অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত।

পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট ও অমার্জনীয় ব্যর্থতাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫ই আগস্টের পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের চেয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা, দেশজুড়ে নতুন করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং বেপরোয়া লুটপাটের মচ্ছব তৈরি করতে বেশি ব্যস্ত থেকেছে। ক্ষমতার নতুন সমীকরণে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক চেইন ভেঙে পড়েছে; চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে দমন-নিপীড়ন আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংক্রামক ‘মব কালচার’ (Mob Culture)। যখন পুরো দেশ জুড়ে মব জাস্টিস আর ক্ষমতার দখলদারিত্ব কায়েমের উন্মাদনা চলছে, তখন রাষ্ট্র পরিচালনার মূল স্তম্ভগুলো চরমভাবে অবহেলিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পথগুলো সচল রাখা, নদী-নালার নাব্যতা রক্ষা এবং পানি ব্যবস্থাপনার যথাযথ প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করার মতো অতীব জরুরি প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কাজগুলো সম্পূর্ণ আড়ালে চলে গেছে। জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা রুখতে পূর্বপ্রস্তুতির যে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল, ক্ষমতার চেয়ার রক্ষায় ব্যস্ত শাসকেরা তা করার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখায়নি। ফলে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল কিংবা বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র কোনো আগাম প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে পারেনি, যার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ ও নিরীহ জনগণকে। এর পাশাপাশি রয়েছে diplomatic দেউলিয়াত্ব ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতা।

প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হঠাৎ নেমে আসা উজানের পানির সঠিক ব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান করতে না পারা বর্তমান প্রশাসনের একটি অন্যতম বড় এবং লজ্জাজনক ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং যৌথ আগাম সতর্কতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিতে না পারায় সীমান্তসংলগ্ন জেলাগুলোকে বারবার বিনা নোটিশে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর রাষ্ট্র কেবল অক্ষম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার তথ্য দিলেও, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেই সতর্কতা পৌঁছানো এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। দুর্যোগের পর জোড়াতালির লোকদেখানো ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা দেখা গেলেও, দুর্যোগের আগে বাঁধ সংস্কার, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কিংবা নিয়মিত নদী খননের (ড্রেজিং) কাজে চরম গাফিলতি, ফাইলবন্দি আমলাতন্ত্র ও উদাসীনতা এই জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার এই দানবীয় থাবায় শুধু মানুষের প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং গ্রামীণ ও জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই দুর্যোগের প্রেক্ষিতে যে ব্যাপক ও বহুমুখী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এককথায় অপূরণীয়। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ধান, আউশ ধান এবং শীতকালীন আগাম শাকসবজির ক্ষেত নোনা ও ঘোলা পানির নিচে পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকের আগামী দিনের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল বা বীজতলাগুলো অব্যবস্থাপনার কারণে ধুয়ে-মুছে গেছে। একই সাথে উপকূলীয় ও বন্যাবলিত অঞ্চলের হাজার হাজার মাছের ঘের এবং পুকুর ভেসে গেছে। লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে চলে যাওয়ায় চাষিরা চরম ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় এবং তীব্র খাদ্য সংকটে অসংখ্য গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গু করে দিয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের প্রচণ্ড গতিতে কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অপরিসর আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।

গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসের তীব্র নোনা পানি মিষ্টি পানির পুকুর এবং নলকূপগুলোতে প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ এলাকার সুপেয় পানির উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে, আর ফসলি জমিতে নোনা পানি জমে থাকায় মাটির উর্বরা শক্তি দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হওয়ার মুখে পড়েছে। এমনকি শত শত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং হাসপাতাল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জরুরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

জলোচ্ছ্বাসের পানি একসময় নেমে যাবে, কিন্তু উপদ্রুত মানুষের বুকের ভেতর যে হাহাকার আর অভাব-অনটনের আগুন জ্বলে উঠেছে, তা নেভানোর কোনো জাদুকরী উপায় রাষ্ট্রের কাছে নেই। পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে ভেসে উঠছে এক বীভৎস ধ্বংসস্তূপ, যা মানুষের জীবনকে এক চরম দুর্বিষহ ও পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একদিকে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় সাধের বাড়িটি মাটির সাথে মিশে গেছে, অন্যদিকে চোখের সামনে পচে নষ্ট হয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি। যে কৃষক কদিন আগেও স্বাবলম্বী ছিলেন, আজ তিনি পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য অন্যের হাত পাতার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এই অবর্ণনীয় ক্ষতি ও ঋণের খতিয়ান গ্রামীণ অর্থনীতিকে এমনভাবে বিপর্যস্ত করেছে যে, মানুষের টিকে থাকার ন্যূনতম আশাটুকুও এখন বিলীন হওয়ার পথে। নোনা পানির আগ্রাসনে জমিগুলো দীর্ঘমেয়াদে অনুর্বর হয়ে পড়ায় আগামী দিনগুলোতে খাদ্য উৎপাদনের চাকা সম্পূর্ণ থমকে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহে। যখন প্রধান খাদ্য চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান তলানিতে ঠেকবে, তখন বাজার সিন্ডিকেটের অশুভ থাবায় দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ফলে অনাহার এবং তীব্র পুষ্টিহীনতার এক চরম রূপ আমরা দেখতে পাব। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেশে একটি চরম আকাল ও দুর্ভিক্ষের জন্ম দেবে—যা কোনো কাল্পনিক আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান প্রশাসনের অযোগ্যতা এবং লুটপাটের রাজনীতির কারণে ধেয়ে আসা এক অবহারিত নির্মম বাস্তবতা।

জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা কমে পানি নেমে যাওয়ার পর আসল মানবিক বিপর্যয় ও সংকটগুলো আরও নগ্নরূপে সামনে আসে। জলোচ্ছ্বাস-পরবর্তী এই সময়ে যে ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ সমস্যাগুলো দাঁড়াতে পারে, তা বর্তমান নীতিহীন ও ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে মোকাবিলা করা অসম্ভব বললেই চলে। প্রথমত, বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে। পানি নেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন খাওয়ার পানির উৎসগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী থাকবে। এই দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, cholera, টাইফয়েড ও চর্মরোগের মতো মহামারী দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, যা ভেঙে পড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানবে। দ্বিতীয়ত, বাস্তুচ্যুত মানুষের শহরমুখী স্রোত সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেবে। ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে লাখ লাখ মানুষ রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

উপকূলীয় অঞ্চলে টিকে থাকার কোনো উপায় না দেখে এই বিশাল জনগোষ্ঠী জলবায়ু শরণার্থী হিসেবে শহরের বস্তিগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে। এর ফলে আবাসন সংকট তীব্র হবে, বেকারত্ব বাড়বে এবং সামাজিক অপরাধ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। এই সার্বিক পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ইতিমধ্যেই আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে, যার ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশজুড়ে পুষ্টিহীনতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দেবে।

বাংলাদেশ অতীতে বারবার সাধারণ মানুষের অদম্য সাহসে ও জনগণের নিজেদের শক্তিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলে উঠেছে, কোনো শাসকের একক কৃতিত্বে বা অনুগ্রহে নয়। এবারও যদি শুধু কাগজের পরিকল্পনা, প্রজেক্টের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার আর মিডিয়ায় গালভরা বচন ছড়ানো হয়, তবে এই ধ্বংসের চক্র থেকে বেরোনো অসম্ভব। ৫ই আগস্টের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু বর্তমানের এই প্রলয় প্রমাণ করে, সেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের পথ থেকে রাষ্ট্র অনেকটাই বিচ্যুত। দুর্যোগের এই মহাসংকট থেকে বাঁচতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ধানের জাত ও উন্নত টেকসই বীজ কৃষকদের মাঝে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। জোড়াতালির বাঁধ নয়, আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যায় শক্তিশালী ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে নদী, জলাশয় ও পাহাড় দখলদারিত্ব চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খনন (ড্রেজিং) করতে হবে। দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রান্তিক মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আধুনিক ও দায়বদ্ধ করতে হবে। 'ডেল্টা প্ল্যান ২১০০'-এর মতো দূরদর্শী পরিকল্পনাকে শুধু বাজেট লুটের হাতিয়ার না বানিয়ে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

এই বন্যা আমাদের কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কিংবা প্রকৃতির ওপর অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার লিপ্সা চাপিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য টেকসই, দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ উন্নয়নই একমাত্র পথ। প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনগণের এই হাহাকার কখনোই কমবে না। ক্ষমতা ও মব কালচারের রাজনীতি ছেড়ে প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। তবেই বাংলাদেশ শুধু টিকে থাকবে না; ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্যোগমুক্ত একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে জয়ী হবে।

লেখক : একজন কবি।