ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

সারিয়াকান্দিতে নারী ও গ্রাম পুলিশকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল

২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:০৮:৫৪
সারিয়াকান্দিতে নারী ও গ্রাম পুলিশকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল

বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহজালাল বাজারে এক নারী ও একজন পোশাকধারী গ্রাম্য পুলিশকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, গত ১৩ জুলাই বাজার এলাকায় মাদক সংক্রান্ত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিওতে ওই নারীকে কালী সহ বিভিন্ন দেবদেবীর নামে দিব্যি দিতে বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে নারীকে নীরব থাকতে দেখা যায়। একই ঘটনায় চেয়ারম্যান একজন পোশাকধারী গ্রাম্য পুলিশকেও মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত লোকজন চেয়ারম্যানকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি তখন উত্তেজিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। একজন ইউপি চেয়ারম্যান কোনো নারীকে, বিশেষ করে প্রকাশ্যে এভাবে মারধর করা, কোনো ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি বিমল রবিদাস বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। চেয়ারম্যান যা করেছেন, তা নিন্দনীয়।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। একজন নারী ও পোশাকধারী গ্রাম্য পুলিশকে প্রকাশ্যে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা করেছি, তাদের রক্ষার স্বার্থেই করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, একজন নারী ও পোশাকধারী গ্রাম্য পুলিশকে প্রকাশ্যে মারধরের ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে প্রকাশ্যে একজন নারী ও একজন পোশাকধারী গ্রাম্য পুলিশকে মারধর করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মন্তব্যের ঘরে অনেকেই এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন।

(বিএস/এসপি/জুলাই ১৫, ২০২৬)