ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সাতক্ষীরা উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ অভিযান শুরু

২০২৬ জুলাই ১৬ ১৭:৪৫:০২
সাতক্ষীরা উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ অভিযান শুরু

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : বাংলাদেশের ভঙ্গুর উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় দশ লক্ষ বীজ রোপণ শীর্ষক একটি অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংগঠন, পরিবেশ কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় নাগরিকদের একটি বৃহৎ জোট দেশীয় গাছের বীজ সংগ্রহ ও রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে স্থানীয় সংগঠন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক অ্যাসোসিয়েশন, শ্যামনগর গ্রিন কোয়ালিশন এবং বারসিক।

এতে শ্যামনগর গ্রিন কােয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জীর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন।

তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণ এবং অবক্ষয়িত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান অপরিহার্য। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এর লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে দেশীয় ফলজ ও বনজ প্রজাতির গাছের বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং রোপণের জন্য নাগরিকদের সংগঠিত করা।

আয়োজকরা বলেন, এই প্রচারাভিযানটি শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি একটি নাগরিক-নেতৃত্বাধীন পরিবেশ আন্দোলন, যা জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, কার্বন শোষণ বৃদ্ধি, নদী তীর ও উপকূলীয় ভূদৃশ্য রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের উন্নতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক সহনশীলতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে নিম, আম, কাঁঠাল, জাম্বুরা, মাঙ্কিজ্যাক, তেঁতুল, তাল, খেজুর, বাবলা, বট, অর্জুন, ট্রপিক্যাল আমন্ড এবং অন্যান্য স্থানীয়ভাবে অভিযোজিত প্রজাতির মতো দেশীয় গাছের বীজ সংগ্রহ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে চার লাখেরও বেশি বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আগ্রহীদের প্রতি বীজ সংরক্ষণ ও দান করার আহবান জানানো হয় এবং উপকূল পুনরুদ্ধারে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, এই অভিযানের সমাপনী অনুষ্ঠানে সকল বীজ দাতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সকলের প্রতি এই প্রচারাভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, একটি মাত্র বীজ উপকূলের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আজকের বীজই আগামী দিনের গাছ, আর আগামী দিনের গাছই একটি শক্তিশালী, সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ।

(আরকে/এসপি/জুলাই ১৬, ২০২৬)