ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

টুঙ্গিপাড়ায় জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল পানি বন্দি ৩শ পরিবার

২০২৬ জুলাই ২১ ১৬:২৮:২৫
টুঙ্গিপাড়ায় জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল পানি বন্দি ৩শ পরিবার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :পানি নিষ্কাশনের ভূগর্ভস্থ নলের (কালভার্ট) মুখে বালি ও মাটি ভরাট করায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় থাকতেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পরতে হতো বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের। থমকে যেত কৃষি কাজ ও গবাদি পশু পালন।

গত শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক যুবক ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর গোপালগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্যর নির্দেশে সোমবার সেই কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায় প্রায় ৩০০ পরিবার।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নাসির সড়কের নিচে সরকারি জায়গায় একটি ভূগর্ভস্থ নল (কালভার্ট) ছিলো। যার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি জমে না থেকে সরাসরি নদীতে গিয়ে পরতো। কিন্তু প্রায় ৩ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করতে মাটি ও বালি ভরাট করে। তখন থেকেই নলের মুখটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার মধ্যেই বসবাস করতে হতো বর্নি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পায়নি তারা। পরে গত শুক্রবার জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয় এক যুবক ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর গোপালগঞ্জ ৩ আসনের এমপি এসএম জিলানীর নির্দেশে কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এসময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান খান সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়ে বর্নি ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাঁকা খাঁ বলেন, গত ৩ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করতে মাটি ও বালি ভরাট করলে কালভার্টের মুখও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই বর্ষাকাল এলেই জলাবদ্ধতায় জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পরতো প্রায় ৩০০টি পরিবারের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জানানোর পরও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরে এমপির নির্দেশে বিএনপি নেতা কর্মীরা কালভার্টের মুখটি উন্মুক্ত করেন। এজন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

একই ওয়ার্ডের রুনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় ছেলেমেয়েরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারতো না, বইখাতা নষ্ট হতো। এছাড়া গবাদি পশু পালন সহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাপকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হতো। পরে এমপির নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করে কালভার্টের মুখ থেকে মাটি ও বালি সরিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।

৫ম শ্রেণীর ছাত্রী নুরজাহান বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে পানি থাকায় আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারতাম না। আর সেই পানিতে থাকা বিভিন্ন পোকা মাকড় ঘরে পর্যন্ত উঠে যেত। এখন পানি ছাড়ানোর ব্যবস্থা হয়েছে, আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারবো।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার স্থানীয় এক যুবক জলাবদ্ধতা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করার পর বিষয়টি গোপালগঞ্জ ৩ আসনের এমপি এসএম জিলানীর নজরে আসে। তখন এমপির নির্দেশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোমবার দিনব্যাপী কাজ করে কালভার্টের মুখে থাকা বালি ও মাটি সরিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করেন। তখন থেকেই ভূগর্ভস্থ নল থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। নিজের স্বার্থের জন্য জনগণের দুর্ভোগ হয় এমন কোন কাজ না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধও করেন তিনি।

(টিবি/এএস/জুলাই ২১, ২০২৬)