ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

কালিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, ঘাতককে হত্যার পর ঘরবাড়ি ভাঙচুর 

২০২৬ জুলাই ২১ ১৭:৪৩:২১
কালিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, ঘাতককে হত্যার পর ঘরবাড়ি ভাঙচুর 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ঝাল মুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার কানের সোনার দুল ছিঁড়ে নিয়ে হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ আলমারির ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই হত্যাকারি ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে ইট দিয়ে খেঁতলে হত্যার পর তার বাড়িঘর ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে।

গতকাল সোমবার রাতের দিকে পুলিশ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম থেকে ওই ছাত্রী ও ঝালমুড়ি বিক্রেতার লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত স্কুল ছাত্রীর নাম ফারজানা ইয়াসমিন (৯)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের কৃষক ও ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে ও ৪১ নং কাশীবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। নিহত ঝালমুড়ি বিক্রেতার নাম- সুরাইয়া আক্তার। সে একই গ্রাম কাশিবাটির আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ও লুৎফর রহমানের মেয়ে।

নলতা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ এমাদুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও সদস্য আব্দুল কাদের খোকন জানান, কাশিবাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার প্রতিদিন কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে। সোমবার সকালে ফারজানা ইয়াসমিনকে আগে স্কুলে আসতে বলে সুরাইয়া আক্তার। সে অনুযায়ি ফারজানা সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে এলে সুরাইয়া তাকে ডেকে নিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর জন্য বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার হাত ও পা বেঁধে কানে থাকা সোনার কানের দুল ছিঁড়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ আলমারির ড্রয়ারে রেখে দেয়। দুপুরে ফারজানা বাড়িতে না যাওয়ায় তার বাবা ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থান তাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফারজানার জবাই করা লাশ ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তারের বাড়ির আলমারির ড্রয়ার থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুরাইয়াকে আটক করে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে। এ সময় তার বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্রামবাসি এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ফারজানা ও সুরাইয়া আক্তারের লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। রাত ৯টার পর অতিরিক্ত পুলিশ এসে ফারাজানা ও সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে।

নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম জানান, তার বোনঝিকে সোনার দুলের জন্য হত্যা করেছে সুরাইয়া।

কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল বলেন, ফারজানাকে সোমবার সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে স্কুল থেকে সুরাইয়া ডেকে নিয়ে যায়। যাহা স্কুলের সিসি ক্যামেরা দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে অবহিত করা হয়।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় ফারজানাকে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিকেলে তিনিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। স্কুল ছাত্রী ফারজানার হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধ কওে হত্যার পর লাশ ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়ার ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখে। তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুরাইয়াকে ইট দিয়ে থেঁতল মেরে ফেলে ও তার ঘরবাড়ি ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফারজানা ও সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

(আরকে/এসপি/জুলাই ২১, ২০২৬)