ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পাবনার  ফরিদপুরে সরকারি বিধি না মেনে গাছ কাটলেন ওসি, সচেতন মহলে ক্ষোভ

২০২৬ জুলাই ২২ ১৮:৪৫:২৩
পাবনার  ফরিদপুরে সরকারি বিধি না মেনে গাছ কাটলেন ওসি, সচেতন মহলে ক্ষোভ

পাবনা প্রতিনিধি : সরকারি বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই পাবনার ফরিদপুর থানার মূল ফটকের সামনের দুটি শতবর্ষী মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শতবর্ষী ও দৃষ্টিনন্দন গাছ দুটি কেটে ফেলায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই শুক্রবার ফরিদপুর থানার প্রবেশপথের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকা থেকে গাছ দুটি কেটে ফেলা হয়। বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক ও লিখিত কোনো অনুমোদন ছাড়াই এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে গাছ কেটে ফেলায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পত্তি বিনাশ করলেন—তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “গাছ দুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় আমরা বন কর্মকর্তাদের সাথে মৌখিক কথা বলি। বন কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে আমাদের মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। অনুমতি পাওয়ার জন্য আমাদের লিখিত আবেদন প্রক্রিয়াধীন। লিখিত অনুমোদন পেলে গাছ দুটি দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।”

তবে লিখিত অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নে ফরিদপুর বন কর্মকর্তা মো. মর্তুজা বলেন, “গাছ দুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অপসারণের কথা বলা হয়েছে। কোনো গাছ জনস্বার্থে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রজ্ঞাপন রয়েছে।”

অথচ পরিবেশ আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বা সরকারি জায়গায় থাকা গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের নির্দিষ্ট তদন্ত, মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই কেবল লিখিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা কেবল ‘মৌখিক অনুমতি’র অজুহাতে শতবর্ষী বা মূল্যবান সরকারি গাছ কাটতে পারেন না।

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আইন রক্ষাকারী সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে গাছ কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের দাবি, দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহাসিক গাছ দুটি কাটার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একই সাথে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে গাছ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

(এফআর/এসপি/জুলাই ২২, ২০২৬)