ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত

‘সরকারের ব্যর্থতায় দেশ ভীতির জনপদে পরিণত হয়েছে’

২০২৬ জুলাই ২৩ ১২:৪৯:৫৯
‘সরকারের ব্যর্থতায় দেশ ভীতির জনপদে পরিণত হয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার ফলে দেশ এক ভীতি ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির(সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতেও সিপিবির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকার সমাবেশে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের শাসন শুধুই মানুষের আতঙ্ক-আশঙ্কা আর দীর্ঘশ্বাস বাড়িয়েছে।

জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধি ও বাজেটে জনসাধারণের উপর কর ও ঋণের বোঝা চাপানোর মধ্যদিয়ে জনজীবনের সংকট তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার ফলে দেশ এক ভীতি ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

সিপিবি সভাপতি বলেন, দেশের স্বার্থ বিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল না করা, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চক্রান্ত বহাল রাখা, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া এবং বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ বিষয়ে সরকারের গণবিরোধী নীতি ও দাসত্বের মনোভাব মানুষের সামনে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ, মঞ্জুর মঈন, ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল।

সমাবেশ থেকে বক্তারা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান না করার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশ সঠিক নেতৃত্বের হাতে নেই।

সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ এবং জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষার সংগ্রামে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আপোশহীন ভূমিকা পালন করবে এবং এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

(ওএস/এএস/জুলাই ২৩, ২০২৬)