প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
জলাবদ্ধতায় সহস্র একর জমি, বিপাকে কৃষকেরা, চায় কালভার্ট
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৪:৪৫:০৭
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামে পানি প্রবাহের একমাত্র কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জলে নিমজ্জিত প্রায় সহস্র একর জমি। সারা বছর ফসল ফলানো এসব জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে চাষবাস করতে পারছে না কৃষকেরা। ফলে এসব জমির ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই এলাকার সহস্র একর উৎপাদনশীল একমাত্র বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠটি আর নেই, চারদিকে থৈ থৈ করছে আটকে পড়া বৃষ্টির পানি। এর মূল কারণ হলো, এই অঞ্চলের পানি প্রবাহের একমাত্র কালভার্টটি ভেঙে পড়েছে অনেক আগেই। এছাড়া কালভার্টটির একপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভরাট করায় কালভার্টের একপাশ বন্ধ হয়ে গেছে পুরোপুরি। ফলে পানি প্রবাহের বিকল্প পথ না থাকায় জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা।
এই অঞ্চলের সহস্র একর জমিতে অর্থকরী ফসল ফলতো সারা বছরই। এখানে বীজতলা তৈরি ছাড়াও ধান, পাট, মৌসুম ভিত্তিক ফসল, শাকসবজি ফলতো সোনার মতো। কিন্তু জলাবদ্ধতায় সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে সব ধরনের ফসল। এমনকি এসব জমিতে করা যাচ্ছে না মৌসুমভিত্তিক ফসলের চাষবাসও। ধানের বীজতলা তৈরিতেও দেখা দিয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এছড়া বাড়িঘরে পানি উঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারগুলো।
কথা হয় কৃষক মো. দুলাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এই গ্রামের প্রায় সব মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তারা এসব জমিতে বিভিন্ন ফয়ফসল ও সবজি চাষ করে সারা বছর। এবার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে এই অঞ্চলের জমি। তাই ফসল ফলানো তো দূরের কথা, জমিতে হালই জুড়তে পারিনি এখন পর্যন্ত। পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হলে এ মৌসুমে আর আবাদ করা যাবে না। কৃষক পরিবারে নেমে আসবে দুর্ভিক্ষ।
কৃষক মন্জু মিয়া বলেন, এই এলাকার জমিতে বিপুল পরিমাণ বেগুন উৎপাদন হয়। দেশের বিভিন্ন জেলাতে রপ্তানি হয় এই বেগুন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পানি না নামার কারণে অধিকাংশ বেগুনের গাছ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং পঁচে নষ্ট যাচ্ছে। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকেরা।
তিনি আরও বলেন, এখন ধান লাগানোর সময়। কিন্তু বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করার মতো উঁচু জমিও নেই। আমরা এখন কীভাবে ধান লাগাবো বুঝতে পারছি না!
এলাকাবাসীর দাবি, পুরনো ভেঙে পড়া একমাত্র কালভার্টটি দ্রুত সংস্কার করে পানি প্রবাহের পথ সুগম করা। একই সঙ্গে এই অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহের মাত্রা বাড়তি হবার কারণে নতুন করে পানি প্রবাহের আর একটি কালভার্ট নির্মাণ করে কৃষকদের ফসল উৎপাদন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দরকার।
এই দুর্ভোগ লাঘবে এবং কৃষকদের বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
(আরআর/এএস/জুলাই ২৫, ২০২৬)
