ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

‘মিথ্যা বলবেন না’

২০২৬ জুলাই ২৭ ১৪:১৫:৩২
‘মিথ্যা বলবেন না’

স্পোর্টস ডেস্ক : ব্রাজিলিয়ান লিগে শাপেকোযেন্সের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র ম্যাচের চরম উত্তেজনার পরদিনই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন সান্তোসের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। কোচিং স্টাফের কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই নির্ধারিত অনুশীলন সেশনে অংশ না নিয়ে পেলে ট্রেনিং সেন্টার ত্যাগ করেছেন তিনি।

শনিবার রাতের ম্যাচে জোড়া পেনাল্টি থেকে গোল করে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছিলেন নেইমার। রোববার সকালে তার রিকভারি অনুশীলনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি কেবল ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত হন, ছবি তোলেন এবং কফি পান করে সেশন শুরুর আগেই বের হয়ে যান, যা টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনার পরিপন্থী।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘জি’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ম্যাচের বিরতিতেই ঘটনাটির সূত্রপাত। ড্রেসিংরুমে সান্তোসের দুই তরুণ ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো এবং ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের ওপর বেজায় চটে যান নেইমার।
ম্যাচের শেষ দিকে আনানিয়াসের আত্মঘাতী গোল এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় মার্সিনহোর গোলে সান্তোস সমতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নেইমার তরুণ মিডফিল্ডার বোন্তেম্পোকে উদ্দেশ্য করে ড্রেসিংরুমের পেশাদার সীমানা ছাড়িয়ে কটূক্তি করেন এবং ব্যঙ্গ করে বলেন যে, ২০২৭ সালে হয়তো বোন্তেম্পোকে সিরি-বি লিগে তলানির দল শাপেকোযেন্সের মুখোমুখি হতে হবে।

ড্রেসিংরুমের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে রোববারই সান্তোসের পর্ষদ সদস্যরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ট্রেনিং সেন্টারে যান।

তবে জুনিয়রদের কটাক্ষ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নেইমার। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি লেখেন, ‘সবাইকে বলতে চাই, এটি আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত কোনো রোববার ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রেখে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। জুনিয়র খেলোয়াড়দের গালাগাল বা বকাঝকা করার যে খবরগুলো ছড়ানো হচ্ছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা।’

পরবর্তী ভিডিওতে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে বা যারা এসব ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে, দয়া করে মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। আপনি যার কাছে ইচ্ছা খোঁজ নিতে পারেন, দলে পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা সবাই কথা বলেছি; আমি, লুকাস ভেরিসিমো, আরা ও গাবি সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। আমরা একটি প্রতিযোগী দল, জয় পেতে আমরা নিজেদের কাছে পারফরম্যান্স দাবি করতেই পারি। তবে জুনিয়রদের অপমান বা গালমন্দ করা হয়নি। এসব রটনা আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না।’

উল্লেখ্য, সান্তোস স্কোয়াডে নেইমারের আচরণ এবং সতীর্থদের প্রতি মনোভাব নিয়ে অসন্তোষ এই প্রথম নয়। মাঠে কোনো আক্রমণ ব্যর্থ হলেই প্রকাশ্যে সতীর্থদের প্রতি বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করার বিষয়টি সতীর্থদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর আগে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে নিজের অনুসারী এবং উদীয়মান ফুটবলার রবসন জুনিয়রের সঙ্গে মাঠের এক ট্রিকস নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন নেইমার। বিষয়টি নিয়ে আইনি নোটিশ পর্যন্ত পৌঁছালে পরবর্তীতে নেইমার প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।

এ ছাড়া শাপেকোযেন্স ম্যাচে রেফারিকে নিয়ে মন্তব্য করায় হলুদ কার্ড দেখে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন নেইমার। সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা ইচ্ছাকৃতভাবে নেওয়া কি না; সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে লেখেন, ‘আমার ভুল হয়েছে, কার্ড খাওয়াটা ঠিক হয়নি এবং এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে! দয়া করে কিছু বানিয়ে বলবেন না।’

সান্তোসে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কের কারণে ক্লাব ও সতীর্থদের সঙ্গে এই তারকা ফরোয়ার্ডের সম্পর্ক চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

(ওএস/এএস/জুলাই ২৭, ২০২৬)