প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ফরিদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখায় মারধরের অভিযোগ, থানায় মামলা
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:৪৪:০২
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে মাদক ব্যবসায়ে বাধা ও স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে মাদক বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার বেধড়ক মারধরের অভিযোগ তুলে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা আলম শেখ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।
কোতায়লি থানা পুলিশের তদন্তাধীন থাকা আলম শেখের করা ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিজ এলাকা ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের বসু-নরসিংহদিয়া গ্রামে
কোনো একটি সমাজ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য রাখার কারণে তার ছেলে মিঠু শেখ (২৮)কে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগপত্রে বাদী আলম শেখ যে তিনজনকে আসামি করেছেন তা হলেন- ১. রুবেল শেখ (৩০) পিতা বাদল শেখ ২. শরীফ শেখ (২৮) পিতা- আছির উদ্দীন শেখ ৩. মো. আলি শেখ (২৬) পিতা- খালেক শেখ সর্ব সাং বসু নরসিংহদিয়া, ইউপি- কানাইপুর, থানা- কোতয়ালি, জেলা- ফরিদপুর। আসামীদের মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী ও এলাকার চিহৃিত সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে ওই অভিযোগপত্রে বাদী আরও উল্লেখ করেছেন, এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক বিক্রি করার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে উপরোক্ত বিবাদীগণ ভুক্তভোগী মিঠু শেখকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ গ্রামের জনৈক ছৈনার বাড়ীর পাশে মিঠুকে লোহার লড, হকিস্টিক, রাম দা সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে মিঠু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসার পর বাড়ীতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় মিঠু বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে বিবাদীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিবাদীদের পরিবারের দাবি, বিশ্বকাপের ফাইনালের দিন সাউন্ড সিস্টেম বাজানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মামামারি ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মিঠুর বাবার দেওয়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান 'দৈনিক বাংলা ৭১'কে জানান, বসু-নরসিংদিয়ার মো. আলম শেখের দেওয়া লিখিত অভিযোগের পর এ বিষয়ে তদন্ত করছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এ অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে আছেন কোতয়ালি থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) হেমায়েত হোসেন। এএসআই হেমায়েত এ বিষয়ে 'দৈনিক বাংলা ৭১'কে জানান, 'মিঠু শেখের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে- তাকে ছ্যাচা মাইর দেওয়া হয়েছে। তাকে বেশ মারধর করা হলেও শরীরে কাটা-ছ্যাড়া বা রক্তক্ষরণ তেমন হয়নি'।
এছাড়া, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
(আরআর/এসপি/জুলাই ২৭, ২০২৬)
