প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
৮ মাসেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণকাজ, পৌরসভার চাপে ফের শুরু
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৮:২৯:৩০
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কুসার সেন্টার থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হাসপাতাল) সংলগ্ন সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীর গতিতে চলায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় আট মাস আগে শুরু হওয়া এই সড়কটির কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। অবশেষে পৌর কর্তৃপক্ষের জোরালো তাগিদের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করেছে।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে শ্রমিকরা নির্মাণকাজ করছেন। তবে সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টিতে সড়কের পাশের বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে এখনও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। দীর্ঘ সূত্রতার কারণে স্থানীয়রা দ্রুত কাজ সম্পন্নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা পৌরসভার কার্যসহকারী সানোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে বালুর সংকট এবং সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিতে সড়কের পাশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিও আমরা সরেজমিনে দেখেছি। কয়েক দিনের চাপের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবার কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, দ্রুত কাজ শেষ হলে জনদুর্ভোগ কমে আসবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রশাসনের বালু উত্তোলন বিরোধী অভিযানের কারণে প্রয়োজনীয় বালু সংগ্রহ করা যায়নি। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিতে সড়কের পাশ ভেঙে গিয়ে আমাদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা পুনরায় কাজ শুরু করেছি এবং দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।
সোনাতলা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ন কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই কাজটি বন্ধ ছিল। আমার জানা মতে, তিনি বিগত সরকারের আমলের ঠিকাদার এবং তার আরও কয়েকটি কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়েছে।পৌরসভা থেকে অফিসিয়ালি ও মৌখিক ভাবে একাধিকবার কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তাগিদের পর গত রোববার থেকে তিনি আবার কাজ শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সড়কে বিচ্ছিন্ন ভাবে ইটের খোয়া ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। আমরা তাকে নির্দেশ দিয়েছি, চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, আর কোনো অজুহাত নয়, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও ব্যবহার যোগ্য করে দেওয়ার। সেই সাথে কাজটি পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।
(বিএস/এসপি/জুলাই ২৮, ২০২৬)
