প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বিস্তারিত
ভারসাম্যের বাইরে: পর্ব- ৩
আইনি অধিকার থেকে বাস্তব নিরাপত্তা: সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৯:০৩:৫৪
মো. ইমদাদুল হক সোহাগ
মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১২ সালে এবং ভারতের সঙ্গে ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক অর্জন। এই দুই রায় বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার স্পষ্ট করেছে। কিন্তু মানচিত্রে আঁকা সীমানা নিজে কোনো জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে না, অবৈধ তৎপরতা বন্ধ করে না কিংবা বিপন্ন মানুষকে উদ্ধার করে না। রাষ্ট্র যখন সমুদ্রে তার অধিকার ও আইনগত এখতিয়ার কার্যকর করতে পারে, তখনই আইনি অধিকার বাস্তব নিরাপত্তায় রূপ নেয়।
বাংলাদেশের সামনে এখন সেই কঠিন কাজটিই রয়েছে। চট্টগ্রাম, পায়রা ও মাতারবাড়ীকে ঘিরে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির পরিসর বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জাহাজ চলাচল, বন্দরনির্ভর বাণিজ্য, উপকূলীয় অবকাঠামো এবং নানা ধরনের ঝুঁকি। টহলজাহাজ ও প্রচলিত প্রতিরক্ষা-সরঞ্জাম অবশ্যই প্রয়োজন; তবে এগুলোই যথেষ্ট নয়। কার্যকর সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত তথ্য, সুস্পষ্ট নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ জনবল এবং টেকসই অর্থায়ন দরকার।
সমুদ্রকে আগে জানতে হবে
কোনো আধুনিক সমুদ্রনির্ভর রাষ্ট্রের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—নিজের সামুদ্রিক পরিসরে প্রতি মুহূর্তে কী ঘটছে, রাষ্ট্র কি তা জানে? নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ চিত্র না থাকলে সক্ষম নৌবহরও ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়। অবৈধ মৎস্য আহরণ, চোরাচালান, জলদস্যুতা, দূষণ, নৌদুর্ঘটনা কিংবা সাইবার বিঘ্ন—হুমকিগুলো আলাদা; কিন্তু প্রতিরোধের সূচনা একই জায়গা থেকে: সময়োপযোগী, নির্ভুল ও যাচাই করা তথ্য।
সমুদ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে এই সমন্বিত ও সার্বক্ষণিক ধারণাই আধুনিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রথম স্তর। কোন জাহাজ কোথায় আছে, তার পরিচয় কী, গতিপথ স্বাভাবিক কি না, কোনো নৌযান বিপদে পড়েছে কি না কিংবা কোনো নিষিদ্ধ তৎপরতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে কি না—এসব তথ্য একই সঙ্গে দেখা ও বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা রাষ্ট্রের থাকতে হবে।
বাংলাদেশ একেবারে শূন্য অবস্থান থেকে শুরু করছে না। নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ, শুল্ক বিভাগ ও মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০০১ সাল থেকে সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের দায়িত্বও পালন করছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে একটি উদ্ধার সমন্বয়ব্যবস্থা আর সার্বক্ষণিক জাতীয় তথ্যসমন্বয় ও নিরাপত্তা পরিচালনাকেন্দ্র এক বিষয় নয়।
মূল দুর্বলতা তথ্যের অভাবে নয়, তথ্যের বিচ্ছিন্নতায়। রাডারের তথ্য, জাহাজ শনাক্তকরণব্যবস্থা, বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানের নথি, মাছ ধরার নৌযানের নিবন্ধন, শুল্ক গোয়েন্দা তথ্য এবং আবহাওয়ার সতর্কবার্তা আলাদা প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহৃত হয়। তথ্য আছে, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে তা সব সময় একই পর্দায় আসে না। এই বিচ্ছিন্নতাই একটি গুরুতর কৌশলগত দুর্বলতা।
একটি ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কেন্দ্র
বাংলাদেশের একটি ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় সামুদ্রিক সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তির অধীন এই কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য যুক্ত করে সমুদ্রের একটি অভিন্ন কার্যপরিস্থিতির চিত্র তৈরি করবে। অর্থাৎ কোথায় কী ঘটছে, কোন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং কোন সংস্থাকে কী করতে হবে—সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা তার হালনাগাদ চিত্র এক জায়গায় পাবেন।
কেন্দ্রটি দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে এবং সমুদ্রে মোতায়েন ইউনিটগুলোর সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখবে। তবে এটি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আইনগত ক্ষমতা নিজের হাতে নেবে না। প্রতিটি সংস্থা নিজস্ব দায়িত্ব পালন করবে। কেন্দ্রটির কাজ হবে তথ্য বিনিময়, ঘটনার ধরন অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্ধারণ এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার জড়িত হলে দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম স্পষ্ট করা।
এই ব্যবস্থায় বেসামরিক তদারকি, তথ্য সুরক্ষা, প্রতিটি সিদ্ধান্তের নিরীক্ষাযোগ্য নথি এবং সংসদীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার নামে একটি অস্বচ্ছ কাঠামো তৈরি হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে আস্থার বদলে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে।
বাস্তবায়ন চার ধাপে হতে পারে। প্রথমে বিদ্যমান রাডার, পর্যবেক্ষণযন্ত্র, তথ্যভান্ডার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মপ্রবাহের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয় ধাপে উদ্ধার, সামুদ্রিক দূষণ, চোরাচালান ও সাইবার হামলা মোকাবিলায় নিয়মিত যৌথ মহড়া চালাতে হবে।
চতুর্থ ধাপে প্রতিবছর একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা সূচক প্রকাশ করা যেতে পারে। সমুদ্রের কত অংশ নির্ভরযোগ্য নজরদারির আওতায় রয়েছে, বিপৎসংকেতে সাড়া দিতে কত সময় লাগছে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কতক্ষণ সচল থাকছে এবং যৌথ অভিযানের ফল কী—এ সূচকে সেগুলো পরিমাপ করা হবে। এতে সাফল্য ও ঘাটতি দুটিই দৃশ্যমান হবে।
হুমকি যখন প্রতিষ্ঠানের সীমানা মানে না
অবৈধ, অপ্রতিবেদিত ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়। এতে মাছের মজুত কমে, উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রাষ্ট্র রাজস্ব হারায় এবং সমুদ্রে তার কর্তৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। একইভাবে চোরাচালানকারীরা এক প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার শেষ হয়ে অন্যটির এখতিয়ার শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী দুর্বলতা কাজে লাগায়। জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি বাণিজ্যের ঝুঁকি ও ব্যয় বাড়ায়।
এসব হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি, তদন্ত, মামলা পরিচালনা এবং আঞ্চলিক তথ্যবিনিময়কে একই ধারায় আনতে হবে। শুধু অপরাধে ব্যবহৃত নৌযান আটক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কারা অর্থ জোগাচ্ছে, পণ্য কোথায় যাচ্ছে, কোন পথে অর্থ লেনদেন হচ্ছে এবং কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাজে লাগানো হয়েছে কি না—তদন্তে সেই পুরো শৃঙ্খল দেখতে হবে।
জলবায়ুজনিত বিপদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, উপকূলভাঙন এবং বড় নৌদুর্ঘটনা প্রচলিত ব্যবস্থার সক্ষমতাকে মুহূর্তে অতিক্রম করতে পারে। তাই সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে শুধু প্রতিরক্ষা ও আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যকেও একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে।
সাইবার নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বন্দর পরিচালনা, পণ্য পরিবহন, নৌচলাচল সহায়তা এবং জাহাজ শনাক্তকরণ এখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। একটি গুরুতর সাইবার হামলা বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ করতে পারে, কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য বিকৃত করতে পারে কিংবা গোপন যোগাযোগ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, সুরক্ষার স্তর অনুযায়ী পৃথক যোগাযোগব্যবস্থা, মূল সংযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন নিরাপদ তথ্যপ্রতিলিপি, প্রশিক্ষিত প্রতিক্রিয়া দল এবং যৌথ সাইবার মহড়া তাই অপরিহার্য। তথ্যপ্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা এখন আর সহায়ক কোনো বিষয় নয়; এটি জাতীয় সার্বভৌমত্বেরই অংশ।
টেকসই নিরাপত্তার অর্থ আসবে কোথা থেকে
আধুনিকীকরণ যেন অর্থের সংস্থানহীন আকাঙ্ক্ষার তালিকায় পরিণত না হয়। বাংলাদেশ একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা অবকাঠামো তহবিল গঠনের কথা বিবেচনা করতে পারে। স্বচ্ছ বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি বন্দর থেকে প্রাপ্ত আয়, সামুদ্রিক অপরাধের জরিমানা এবং সমুদ্রাঞ্চলের জ্বালানি সম্পদ থেকে ভবিষ্যতে পাওয়া রাজস্বের নির্ধারিত অংশ এতে যুক্ত হতে পারে।
তবে রাজস্বের যেকোনো অংশ নির্দিষ্ট তহবিলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদীয় অনুমোদন, সরকারি নিরীক্ষা এবং নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে হবে। তহবিলের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নজরদারি, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনবল প্রশিক্ষণ। শুধু নতুন সরঞ্জাম কেনা, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ লোকের ব্যবস্থা না রাখা—এই পুরোনো ভুল আর করা যাবে না।
বন্দরের সাইবার নিরাপত্তা ও পণ্য পরিবহনের স্থিতিশীলতায় বেসরকারি দক্ষতা কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য, নির্দেশদানব্যবস্থা এবং সার্বভৌম স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য অবশ্যই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সীমানা, নিরাপত্তার মান এবং দায়বদ্ধতা আইনে স্পষ্ট করতে হবে।
উন্নত নিরাপত্তা ব্যবসায়িক বিঘ্ন কমাতে এবং জাহাজমালিক ও বিমাকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিজে থেকেই তার সব ব্যয় তুলে দেবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
মানুষ, উপকূল ও অংশীদারত্ব
প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত মানুষের হাতেই কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সমুদ্র জরিপ, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন, নৌযান নকশা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যবিশ্লেষণ এবং সামুদ্রিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে আরও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পাঠক্রমকে বাস্তব কাজের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সুস্পষ্ট পেশাগত অগ্রগতির পথও থাকতে হবে।
উপকূলের মানুষও জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ। জেলে, বন্দরকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন অনেক সময় অস্বাভাবিক নৌযান চলাচল, দূষণ কিংবা বিপদের লক্ষণ সবার আগে দেখতে পান। তাঁদের জন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদ দেওয়ার ব্যবস্থা, মৌলিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং সৎ উদ্দেশ্যে তথ্য দেওয়া ব্যক্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রের নজরদারির পরিসর বাড়বে। একই সঙ্গে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থাও শক্ত হবে।
বিদেশি অংশীদারত্বের লক্ষ্য হবে সক্ষমতা অর্জন, নির্ভরতা সৃষ্টি নয়। জাপানসহ সক্ষম সহযোগীদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার পারস্পরিক সামঞ্জস্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিমসটেকের আওতায় আবহাওয়ার তথ্য, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং জরুরি যোগাযোগে কার্যকর আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পারে।
সামুদ্রিক পরিপক্বতার আসল পরীক্ষা
বৃহৎ শক্তিগুলোর আক্রমণাত্মক নৌ-উচ্চাভিলাষ অনুকরণের প্রয়োজন বাংলাদেশের নেই। আমাদের শক্তি আসবে নিজের সমুদ্র সম্পর্কে জানার সক্ষমতা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় এবং আইনের অধীন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থেকে। লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরকে সামরিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত করা নয়; বরং বৈধ বাণিজ্য ও জীবিকাকে নিরাপদ এবং অবৈধ তৎপরতাকে কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অলাভজনক করে তোলা।
২০১২ ও ২০১৪ সালের নিষ্পত্তি সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এখন সেই অধিকারকে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার পালা। এই সাফল্য শুধু যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা, নতুন স্থাপনা কিংবা ঘোষণায় পরিমাপ করা যাবে না। একটি বাস্তব সংকটের সময় রাষ্ট্র কত দ্রুত তথ্য বুঝতে পারে, প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করে, আইন কতটা কার্যকর হয় এবং মানুষ কতটা আস্থা রাখতে পারে—সামুদ্রিক পরিপক্বতার আসল পরীক্ষা সেখানেই। আইনি বিজয়কে স্থায়ী নিরাপত্তায় রূপ দেওয়ার পথও এটাই।
লেখক : ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক, নীতি গবেষক ও কলাম লেখক।
