ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে শীর্ষ উপদেষ্টাদের মধ্যে মতবিরোধ, বিরক্ত ট্রাম্প

২০২৬ জুলাই ৩১ ১৩:০৬:৪৫
ইরান যুদ্ধ নিয়ে শীর্ষ উপদেষ্টাদের মধ্যে মতবিরোধ, বিরক্ত ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে টানা ছয় মাসের যুদ্ধ নিয়ে ক্রমেই বিরক্ত ও হতাশ হয়ে উঠছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা হবে, সে বিষয়ে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের মধ্যেই কোনো ঐকমত্য নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আশা করেছিলেন ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরবে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ মিত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিসি নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট এত দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট খুবই বিরক্ত।

তিনি মনে করেননি, ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করানো এত কঠিন হবে। এই যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছিল না।
তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চাননি।’

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ চললেও প্রশাসনের ভেতরে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এখনো কোনো ঐক্য গড়ে ওঠেনি।

তার ভাষায়, ‘আমরা কৌশলগতভাবে কিছু সাফল্য পেলেও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দিকনির্দেশনা ছাড়া শেষ পর্যন্ত কৌশলগত পরাজয়ের ঝুঁকিতে রয়েছি।’

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত সপ্তাহে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রেসিডেন্টের একটি দক্ষ দল রয়েছে, যাদের ওপর তিনি আস্থা রাখেন। সবাই জানেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেন।’

তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন, মার্কিন সেনা নিহত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানও অপরিবর্তিত থাকবে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষা বিভাগ সব সময় প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন ইরান ইস্যুতে একই অবস্থানে রয়েছেন।

তবে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা দুটি শিবিরে বিভক্ত।

একটি শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাদের মতে, ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক চাপ প্রয়োগ করা উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অবস্থানকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সমর্থন করেন।

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি শিবির আরও সতর্ক অবস্থানের পক্ষে। তাদের আশঙ্কা, সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ বাড়বে এবং সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আর কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন প্রায় ছয় মাসে পৌঁছেছে।

ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, তেহরান আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী। তবে ইরান এখনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি।

বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। তারা বড় ধরনের মূল্য দেবে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলেও ইরান হঠাৎ করেই আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তথ্যসূত্র : এনবিসি নিউজ

(ওএস/এএস/জুলাই ৩১, ২০২৬)