প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
হাজারো ভক্তের ঢল, এইতো মধুর বৃন্দাবন
২০২৬ জুলাই ৩১ ১৮:৩৭:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : পাবনার ঈশ্বরদীর আরামবাড়ীয়ায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটেছে। ভক্তদের পদধূলিতে বৃন্দাবনধামে পরিণত হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গন। শাস্ত্রে ও সনাতন ধর্মে বলা হয়- যেখানে ভক্তরা একত্রিত হয়ে ভগবানের নাম কীর্তন করেন, সেই স্থানই বৃন্দাবনে পরিণত হয়।
আজ শুক্রবার রাধা গোবিন্দের অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তন উপলক্ষে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়ীয়া পূর্বপাড়া ও গোপালপুর বারোয়ারী শিব মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে।
এর আগে গত সোমবার রাতে শুভ অধিবাস কীর্তনের মধ্য দিয়ে ৩২ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও রাধা গোবিন্দের অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
আয়োজকরা জানায়, এবছর আমাদের ৬২তম অধিবেশন চলছে। তিনদিনব্যাপী নাম সংকীর্তন শেষে আজকে ভোর থেকে শুরু হয়েছে পদাবলী কীর্তন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছে মন্দিরে। আবহাওয়া ভালো থাকলে সংখ্যা আরো বাড়ত। অনুষ্ঠান স্থলের সার্বিক পরিস্থিতি এখনও ঠিকঠাক আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দির আঙিনায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। উপস্থিতি বেশি হওয়ায় তিল ধারনের জায়গা নেই অনুষ্ঠানস্থলে। বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়েই কীর্তন শ্রবন করছেন অসংখ্য মানুষ। এতে কারও আক্ষেপ নেই। অনুষ্ঠান ঘিরে বসেছে মেলা। নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোর সহ বয়জ্যৈষ্ঠরাও মেলা ঘুরছেন। প্রয়োজন মতো করছেন কেনাকাটা। মেলার পাশেই চলছে ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ। সেখানেও দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়।
ভক্তরা জানায়, বসার জায়গা পাচ্ছি না, দাড়িয়েই কীর্তন শুনছি। তবুও আনন্দ হচ্ছে। এতো ভক্ত আশেপাশের কোন মন্দিরে হয় না। এখানে খুব যত্ন করে ভক্তদের জন্য সেবার আয়োজন করা হয়। আমরা প্রতিবছরই আসি।
প্রসঙ্গত, তিনদিনব্যাপী নামসুধা পরিবেশনায় ছিলেন- পঞ্চতত্ত্ব সম্প্রদায় (নাটোর), মদনগোপাল সম্প্রদায় (রাজবাড়ী), যুগল কিশোর সম্প্রদায় (মানিকগঞ্জ), শ্রীগুরু সম্প্রদায় (বনগ্রাম, পাবনা), নিত্যানন্দ সম্প্রদায় (বগুড়া), ভাই ভাই সম্প্রদায় (বািলহার, রাজশাহী)। এছাড়া পদাবলী কীর্তন পরিবেশন করছেন- শ্রী অসিত সরকার গগন (সোনাতলা, বগুড়া), কুমারী সুমিতা সরকার (মহাদেবপুর, নওগাঁ), বিকাশ গাঙ্গুলী (ঝিনাইদহ)।
উল্লেখ্য, আগামীকাল শনিবার কুঞ্জভঙ্গ শ্রীমহাপ্রভুর ভোগ উৎসব ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।
(এসপি/এসপি/জুলাই ৩১, ২০২৬)
