ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

প্রতিশোধের লাল নিশানা হাতে কারবালার পথে লাখো পুণ্যার্থী

২০২৬ আগস্ট ০২ ১৪:২২:১৭
প্রতিশোধের লাল নিশানা হাতে কারবালার পথে লাখো পুণ্যার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-মার্কিন যুদ্ধের মধ্যেই আরবাঈন তীর্থযাত্রা শুরু করেছে লাখ লাখ মুসলিম। আরবাঈন তীর্থযাত্রা শিয়া মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ।

মূলত আরবাঈন হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র এবং শিয়া মুসলমানদের তৃতীয় ইমাম, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাজারের উদ্দেশে পদযাত্রা।

আরবাঈন অর্থ কী?
আরবাঈন (আরবি: الأربعين) শব্দের অর্থ চল্লিশ। ইসলামি চান্দ্র মাস মহররমের ১০ তারিখে হুসাইন ইবনে আলি কারবালার যুদ্ধে শহিদ হন। সেই ঘটনার ৪০ দিন পর অর্থাৎ সফর মাসের ২০ তারিখে আরবাইন পালন করা হয়।

আরবাঈনের প্রধান অনুষ্ঠান ইমাম হুসাইনের মাজারে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরে ১ থেকে ৪ আগস্ট এই উৎসব পালিত হবে।

ইরাকের নাজাফ থেকে পবিত্র শহর কারবালার উদ্দেশে আরবাইন পদযাত্রায় অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রীদের হাতে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা দেখা গেছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধের প্রতীক হিসবে এবার লাল পতাকা বহন করে আরবাইন পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন পূণ্যার্থীরা।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক আরবাইন তীর্থযাত্রীর বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ ও তীর্থযাত্রী অংশ নেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও আজাদি স্কয়ারে এই ঐতিহ্যবাহী বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী তীর্থযাত্রীরা ইরাকের কারবালার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। কারবালায় তারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আরবাইন উপলক্ষ্যে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

প্রতিবছর প্রায় কোটি মানুষ এতে অংশ নেন যদিও সঠিক সংখ্যা বছর ভেদে পরিবর্তিত হয়। এই উৎসব ঘিরে অনেকেই ইরাকের নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে অতিক্রম করেন।

এই উৎসবটি বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বিভিন্ন দেশের অন্যান্য মুসলমান এবং কিছু অমুসলিম দর্শনার্থীও এতে অংশ নেন। এটি ইমাম হুসাইন ইবনে আলি-এর শাহাদাতের ৪০তম দিনে পালন করা হয়।

ইরানের ওপর মার্কিন হামলা জেরে মধ্যপ্রাচ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আপাতত বন্ধ রয়েছে তবে যে কোনো মুহুর্তে তা আবার শুরু হতে পারে। এমন যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই এবারের আরবাইন উৎসব আয়োজিত হচ্ছে। তাই এবারের উৎসবে জনসামাগম কিছুটা কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরাকের হজ ও তীর্থযাত্রা বিষয়ক ইরানের প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রধান ধারণা করছেন, এ বছরের আরবাঈন পদযাত্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ ইরানি তীর্থযাত্রী অংশ নিতে পারেন।

ইমাম হুসাইনের আত্মত্যাগ ও ন্যায়বিচারের আদর্শ স্মরণ করতে প্রতিবছর এই উৎসব আয়োজন করা হয়। তবে, অনেকেই এটিকে অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

তাই আরবাঈনে অংশ নিতে বহু তীর্থযাত্রী পায়ে হেঁটে ইরাকের পবিত্র নগরী কারবালায় যান। অনেকেই ইরাকের নাজাফ থেকে কারবালা পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে অতিক্রম করেন।

এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রার্থনা, জিয়ারত, ধর্মীয় আলোচনা এবং মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা। এ সময় নাজাফ থেকে কারবালার পথে পথে ‘মাওকিব’ নামে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী শিবিরে তীর্থযাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, পানি, চিকিৎসা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়।

চলতি বছরে ইরান ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রায় ৩ হাজার সেবা কেন্দ্র বা ‘মাওকিব’ পরিচালনার মাধ্যমে আরবাইন যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি ‘মাওকিব’ সম্পর্কে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আরবাইন সদর দপ্তর জানিয়েছে, শালামচে ও চাজাবেহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে এক হাজারের বেশি মাওকিব (তীর্থযাত্রীদের স্বেচ্ছাসেবী সেবা দেওয়ার জন্য স্থাপিত অস্থায়ী কেন্দ্র) কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য ৩৫০টি উপযুক্ত স্থাপনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে প্রতি রাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অবস্থান করতে পারবেন। প্রদেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মাওকিব পাঠানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র : মেহের নিউজ এজেন্সি/ইরনা

(ওএস/এএস/আগস্ট ০২, ২০২৬)