ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

পোকার নিয়ে নতুন ব্যবসায়িক ভাবনায় নেইমার

২০২৬ আগস্ট ০২ ১৪:৫৭:৫০
পোকার নিয়ে নতুন ব্যবসায়িক ভাবনায় নেইমার

স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলের সবুজ মাঠের বাইরে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের অন্যতম পছন্দের জায়গা এখন তাসের টেবিল।

বিগত ১২ বছর ধরে নিয়মিত শেখা ও চর্চার মাধ্যমে পোকার খেলাকে কেবল একটি শখে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি, বরং এটিকে পরিণত করেছেন এক লাভজনক ব্যবসায়।
আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই খেলাটি থেকে আনুমানিক ২৪ লাখ (২.৪ মিলিয়ন) ব্রাজিলিয়ান রিয়ালেরও (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকা) বেশি প্রাইজমানি বা পুরস্কারের অর্থ উপার্জন করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

২০১৪ সালে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণের সময়ই সতীর্থদের সঙ্গে তাসের খেলায় এই নতুন উন্মাদনার আবিষ্কার করেছিলেন নেইমার।

ফুটবলের মতো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই মানসিক উত্তেজনা পাওয়ার চমৎকার মাধ্যম হিসেবে পোকারকে বেছে নেন তিনি। জাতীয় দল থেকে সাম্প্রতিক বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ‘ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার’-এ (ডব্লিউএসওপি) অংশ নেন তিনি, যদিও চূড়ান্ত প্রাইজমানি জেতার আগেই তাকে আসর থেকে বিদায় নিতে হয়।

দাবা বা ব্রিজের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই খেলায় গত এক দশকে ব্রাজিলের আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট (বিএসওপি), ইউরোপীয় পোকার ট্যুর এবং ওয়ার্ল্ড সিরিজের বিভিন্ন আসরে তাকে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে। তিনি বিশ্বখ্যাত পোকার ব্র্যান্ড 'পোকারস্টার্স'-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোট পাওয়ার পর যখন তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন, তখনো পুনর্বাসনের পাশাপাশি এই অনলাইন ও অফলাইন টুর্নামেন্টগুলোতে বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি। এমনকি ছুটির দিনে কিংবা পারিবারিক সময় দূরে সরিয়ে রেখেও তিনি অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন বড় আয়োজনে।

বিএসওপির প্রধান নির্বাহী রাফায়েল মোরায়েসের মতে, নেইমারের এই খেলাটির প্রতি টান স্রেফ আয়ের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি বলেন, “বিগত ২০ বছরেরও বেশি সময়ে আমি যত মানুষকে দেখেছি, জেতার জন্য নেইমারের মতো তীব্র মানসিক ক্ষিধে খুব কম মানুষের মধ্যেই পেয়েছি। ফুটবল অবশ্যই তার প্রথম ভালোবাসা, তবে পোকার তার জীবনের দ্বিতীয় ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে। মাঠে তিনি যেমন আক্রমণাত্মক খেলেন, ঠিক তেমনি পোকারের টেবিলে দুর্দান্ত ব্লাফ করতে পারেন এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”

তবে কেবল সাফল্য নয়, এই শখের কারণে একাধিকবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই ব্রাজিলীয় তারকাকে। গত বছর সান্তোস যখন মাঠে ম্যাচ খেলছিল, তখন তিনি ভিআইপি বক্সে বসে অনলাইনে পোকার খেলছিলেন; এমন দৃশ্য চোখে পড়েছিল। সম্প্রতি কোপা সুদামেরিকানার প্লে-অফ ম্যাচ চলাকালেও তাকে সাও পাওলোতে আয়োজিত একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা যায়। যদিও তিনি ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না এবং সকালে ক্লাব প্রশিক্ষণ শেষ করেই সেখানে গিয়েছিলেন।

ক্রীড়া মনস্তত্ত্ববিদ ও শরীরচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বমানের অ্যাথলেটরা মাঠের বাইরের মানসিক চাপ দূর করতে বা চোটের সময় নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ধরে রাখতে এই ধরনের বিকল্প উপায়ের আশ্রয় নেন। তবে এই খেলা যদি রাতের পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের সময় নষ্ট করে, তবে তা খেলোয়াড়ের শারীরিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অবসরের পর নেইমার পেশাদার পোকার খেলোয়াড় হবেন কি না তা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন তিনি হয়তো নিয়মিত টুর্নামেন্টে খেলবেন, কিন্তু পুরোপুরি পেশাদার হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। শেষ পর্যন্ত ফুটবলের বুট জোড়া তুলে রাখার পর তাসের টেবিলেই নেইমারকে হয়তো আরও বেশি দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র : গ্লোবো
(ওএস/এএস/আগস্ট ০২, ২০২৬)