প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত
সংকটাপন্ন ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
২০২৬ আগস্ট ১০ ১৪:১০:৫০
স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সংকটাপন্ন চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্থায়ী প্রশাসক এবং সহযোগী প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রবিবার (৯ আগস্ট) জারি করা এক কর্মচারী নির্দেশে এ পদে দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংযুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট’-এর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন
আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড: প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১১ এর পরিচালক আলাউদ্দীন হোসেন। সহকারী প্রশাসক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ফাইন্যান্স কোম্পানি রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম. গোলাম বহলুল এবং এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মাহবুবুর রহমান।
এফএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড: প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-২ এর পরিচালক আবু সামা আতাউর রহমান। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে থাকবেন ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্ট-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক রোকসানা আক্তার এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বশির।
ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড: প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১০ এর পরিচালক সাদেকুর রহমান। সহযোগী প্রশাসক করা হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক সাদরিল আহমেদ এবং এসএমইডিড়-২ (SMEDP-2) শীর্ষক প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক আল আমিনকে।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড: প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। সহযোগী প্রশাসক করা হয়েছে সচিব বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমদ এবং ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-৫ এর অতিরিক্ত পরিচালক জহিরুল ইসলাম ভূঞাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত এবং সংকট নিরসনে অস্থায়ী প্রশাসকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান পর্ষদ স্থগিত করে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। উল্লেখিত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কাজ শুরু করতে নিজ নিজ বিভাগ হতে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা কয়েকটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফআইকে রেজুলেশন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি প্রতিষ্ঠান- পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন-২০২৬-এর আওতায়। আর্থিকভাবে টেকসই না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্গঠন, নিয়ন্ত্রণ, অবসায়ন বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করাই এই রেজুলেশন কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অবসায়নের জন্য চিহ্নিত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার অত্যন্ত উচ্চ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল।
এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রশাসকদের দায়িত্ব কী
নতুন প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবেন। সহযোগী প্রশাসকরা প্রশাসকদের সহায়তা করবেন এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, দায়, ঋণ ও অন্য কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যুক্ত থাকবেন।
(ওএস/এএস/আগস্ট ১০, ২০২৬)
