ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরোধ

নিখোঁজের ৩৮ ঘণ্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম সরদারের কাদামাখা লাশ উদ্ধার

২০২৬ আগস্ট ১০ ১৮:৪৯:৪৮
নিখোঁজের ৩৮ ঘণ্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম সরদারের কাদামাখা লাশ উদ্ধার

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : নিখোঁজের ৩৮ ঘণ্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম সরদারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্ল্যা ইউনিয়নের আগরদাঁড়ি গ্রামের নিজ বড় ভাই নূর ইসলামের বাড়ির পিছন থেকে পুলিশ তার কাদামাখা লাশ উদ্ধার করে।

মৃত কালাম সরদার (৬০) আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে।

আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের গোলাম কিবরিয়া গোল্ডেন জানান, তার বাবা কালাম সরদার গ্রামে গ্রামে ফল কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। দাদা মৃত আব্দুর রহিমের কাছ থেকে আট শতক জমি কিনে নিয়েছেন মর্মে একটি ভুয়া দলিল দেখিয়ে চাচা নূর ইসলাম আট শতক জমি দাবি করে আসছিলেন। ওই জমি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে তার বাবা নামপত্তন করে নেন। জমির হাল রেকর্ড ও তার বাবার নামে। একপর্যায়ে বড় চাচা নূর ইসলাম ওই জমি তার দাবি করে ২০২৪ সালে আশাশুনি সহকারি জজ আদালতে মামলা করে। মামলার পর থেকে দখল করার চেষ্টা করলে বড় চাচার সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

গোলাম কিবরিয়া গোল্ডেন আরো জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পার্শ্ববর্তী মোড়ে চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাতে বাড়ি না ফেরায় সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন তারা। একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙুর হোসেনের পরামর্শে সোমবার সকাল ১০টার দিকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করার সিন্ধান্ত নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশি চাচা গিয়াউদ্দিনের স্ত্রী সালেহা খাতুন বড় চাচা নূর ইসলামের বাড়ির পিছনে বাবার কাদামাখা লাশ দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেন। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক আশাশুনি থানাকে অবহিত করলে দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। বাবার ঘাড়ে ও মাজায় চামড়া ছোলা রয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

কুল্ল্যা ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ডের সদস্য আঙুর হোসেন জানান, দেবহাটা সার্কেল অফিসারসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান জানান, কালাম সরদারের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ১০, ২০২৬)