প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে এস্তোনিয়া
২০২৬ আগস্ট ১১ ০০:৪৭:৫৪
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
এস্তোনিয়া বাংলাদেশের ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)-এ দুই দেশের প্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) অনুবিভাগের সচিব রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম।
এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ।
বৈঠকে দুই পক্ষ জানায়, বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অনেক সম্ভাবনা এখনও অনাবিষ্কৃত রয়েছে।
রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফরের আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করে দুই দেশ। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার কাছে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরে।
বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর এবং এস্তোনিয়ার বেসরকারি খাতের একটি অনুসন্ধানী সফরের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী, নির্মাণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন দক্ষ পেশাজীবীর এস্তোনিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় আইসিটি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও পর্যটন, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরির বিষয়ে দুই দেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা। ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব বাড়াতে এস্তোনিয়া বাংলাদেশকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এস্তোনিয়া জানায়, দেশটির অনেক ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া, শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
দুই দেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শিল্প খাতে সহযোগিতাসহ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে এস্তোনিয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানায় এবং তার মেয়াদকালে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের ভূমিকা তুলে ধরে জানায়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং দুই দেশের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়েও একমত হয় ঢাকা ও তাল্লিন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এস্তোনিয়া।
এর আগে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিতীয় দফার এ ফরেন অফিস কনসালটেশন দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ। আগামী তৃতীয় দফার এফওসি ঢাকায় পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
(ওএস/এএস/আগস্ট ১১, ২০২৬)
