ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

‘শিল্পখাত গ্যাস সংকটে ভুগছে, গুরুত্ব দিতেই হবে’

২০২৬ আগস্ট ১১ ১৪:২৭:০৮
‘শিল্পখাত গ্যাস সংকটে ভুগছে, গুরুত্ব দিতেই হবে’

স্টাফ রিপোর্টার : শিল্পখাত গ্যাস সংকটে ভুগছে জানিয়ে এই খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড.ইজাজ হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমান শিল্পখাত গ্যাস সংকটে ভুগছে। আমরা এমন সেমিনার আগেও অনেক করেছি, সমাধান হয়নি। শিল্পখাতে গ্যাস দিলে ডলার আসে। এদিকে আমাদের গুরুত্ব দিতেই হবে।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের গ্যাসের ৫৮ শতাংশ পাওয়ার জেনারেশনে, ১১ শতাংশ রেসিডেন্সিয়াল, ৫ শতাংশ সিএনজি,৬ শতাংশ সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। গ্যাসের ৮ শতাংশ সিস্টেম লস, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইজাজ হোসেন বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে আমাদের চাহিদা এবং সাপ্লাই কখনই সমান ছিল না। আমরা সংকটের মধ্যেই ছিলাম। আমাদের পুরোনো রিজার্ভ থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বাড়াতে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছি যে দেশীয় গ্যাস শেষের দিকে। অথচ এর মধ্যে নতুন করে গ্যাস আবিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সরকারের আর ভুল করার সুযোগ নেই। আগের সরকারের ভুল করার সুযোগ ছিল, তারা ভুল করেছে। এখন দেখা যাবে সেই সংকটই সরকারকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের তেল, গ্যাস, কয়লা আমদানি অনেক বেড়েছে। এলএনজি আমদানি শুরুর পর আমাদের ডলারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েলের তুলনায় গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ কম। তাহলে আমরা আরেকটা এফএসআরইউ এনে আরও বেশি এলএনজি আমদানি কেন করছি না! এটা করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন ১১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস আসছে এফএসআরইউ দিয়ে। এটা ২০৩০ সালে মিনিমাম ২৬০০ এমএমসিএফডি লাগবে, এজন্য আরও দুইটা এফএসআরইউ দরকার। আমাদের গ্যাস আছে কী নেই বিষয়টা আমাদের জানতে হবে। যদি থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী প্ল্যান করতে হবে আর যদি না থাকে তাহলে অন্যভাবে প্ল্যান করতে হবে।

সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এএস/আগস্ট ১১, ২০২৬)