ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

‘জাতিসংঘে অনুমোদিত হবে এলডিসির সময় বৃদ্ধি’

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৩:৩৪:৫৫
‘জাতিসংঘে অনুমোদিত হবে এলডিসির সময় বৃদ্ধি’

স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আরো তিন বছর বৃদ্ধির আবেদন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-বিস মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এতথ্য জানান।

"আসিয়ানে হালাল পণ্যের বাজার: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ' বিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিস।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনটা তিন বছর বৃদ্ধি করার জন্য জাতিসংঘে আবেদন করা হয়েছে এবং সেটা ইতোমধ্যে এর দুই ধাপ শেষ হয়েছে।

আশা করা হচ্ছে ইউএনজিএ-র ৮১ ফার্স্ট সেশনে সেটা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে। তিন বছর পরে গ্র্যাজুয়েশনের ফলে বাংলাদেশ ডেভেলপিং কান্ট্রিতে পৌঁছে যাবে, সেই গ্র্যাজুয়েশনটা যেন স্মুথ হয়, সেই জন্য বৈশ্বিক বাজারটার কাছে আমাদের এক্সেস বা প্রবেশাধিকার দরকার।

সেই প্রবেশাধিকারটা নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা জাপানের সাথে একটা ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট শুরু করেছি।

এই সরকার আসার পরে সাউথ কোরিয়ার সাথে গত কয়েকদিন আগে একটা ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়াও আমাদের সাথে এফটিএ করার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার সাথেও আগামী দিনে এফটিএ-তে যাবো। এ ছাড়াও আরো ১০-১২টা দেশের সাথে আমাদের এফটিএ আলোচনা চলমান।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথেও হয়তো মাসখানিক পরে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হবে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের জন্য। উদ্দেশ্য একটাই, আমরা বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করবো। কিন্তু বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরির একটা অন্যতম প্রাথমিক উপজীব্য একটা উপাদান যে, যারা বিনিয়োগ করবে তারা দেখবে যে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের একটা প্রবেশাধিকার আছে কিনা, প্রেফারেন্সিয়াল প্রবেশাধিকার আছে কিনা। এবং সেই প্রবেশাধিকার অর্জন করার মাধ্যমটা হলো ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএসটিআই এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন দুইটা এজেন্সি সার্টিফাই করে হালাল সার্টিফিকেশন দেয়। এখানে একজন বক্তার প্রস্তাব হলো- একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট একটা সার্টিফাইং এজেন্সি করা। এটা একটা ইন্টারেস্টিং প্রপোজিশন, এটার বিষয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। আর একজন বলেছেন, অতিরিক্ত চার্জ নেয় হালাল টেস্টিংয়ের জন্য, এটা আমরা চেক করে দেখবো।

তিনি বলেন, আপনি যাই করেন আপনার তো রপ্তানি করতে হবে। আপনি ডোমেস্টিক মার্কেটটাকে হালাল মার্কেটে ধীরে ধীরে কনভার্ট করবেন এবং বাইরের জন্যও হালাল মার্কেট খুঁজবেন, মার্কেটটা তৈরি করবেন। রপ্তানি করতে হলে আগে রপ্তানির সক্ষমতা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দরকার বেশি বেশি বিনিয়োগ আর বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা। আর সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশের একটা উপাদান হচ্ছে অর্থ, ফিন্যান্স।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য আরেকটা আবশ্যকীয় শর্ত জ্বালানি সহজলভ্যতা। এই প্রতিটা জিনিস নিয়েই আমরা কাজ করছি।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। এতে আরো মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগের উপ-পরিচালক ও প্রণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম আবু সাঈদ।

(ওএস/এএস/আগস্ট ১২, ২০২৬)