প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত
হাতের কোমলতা ফেরাতে যা করবেন
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৫:৫১:৩১
নিউজ ডেস্ক : মুখের ত্বকের যত্নে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, হাতের ক্ষেত্রে অনেক সময় ততটা নজর থাকে না। অথচ প্রতিদিন রোদ, পানি, সাবান, স্যানিটাইজার, ডিটারজেন্টসহ নানা উপাদানের সংস্পর্শে আসে হাত। ফলে সময়ের সঙ্গে হাতের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে, দেখা দিতে পারে কালচে ছোপ ও সূক্ষ্ম রেখা। নিয়মিত কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই হাতের ত্বক নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
হাতেও ব্যবহার করুন সানস্ক্রিন
শুধু মুখ নয়, হাতের ত্বককেও সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির ক্ষতি করে। বিশেষ করে হাতের পিঠে দীর্ঘদিনের রোদে পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ বেশি দেখা দিতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে হাতের খোলা অংশে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও সানস্ক্রিন লাগানো ভালো।
হাত ধোয়ার পরই ময়েশ্চারাইজার
বারবার হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। তাই হাত ধোয়ার পর পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করুন। গ্লিসারিন, সেরামাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কড়া সাবান থেকে দূরে থাকুন
হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি হলেও অতিরিক্ত কড়া সাবান বা ডিটারজেন্ট নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হতে পারে। এতে হাত রুক্ষ, শুষ্ক ও টানটান লাগতে পারে। তাই সম্ভব হলে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসও এড়িয়ে চলুন।
রাতে হাতের বাড়তি যত্ন
দিনভর হাতের ত্বকের ওপর নানা ধরনের চাপ পড়ে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার বা হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। আঙুলের গাঁট, নখের চারপাশ ও হাতের পিঠে ভালোভাবে ক্রিম লাগান। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে ক্রিম লাগিয়ে সুতির গ্লাভস পরে ঘুমানো যেতে পারে।
ময়েশ্চারাইজিং হাতের ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।ময়েশ্চারাইজিং হাতের ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে
বয়সের ছাপ কমাতে সচেতনতা
হাতের ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা, অসম রং বা পিগমেন্টেশনের সমস্যা দেখা দিলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন সি, পেপটাইড বা রেটিনয়েডযুক্ত পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে নিজের ইচ্ছায় নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
ঘরের কাজে গ্লাভস ব্যবহার করুন
বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া কিংবা ঘর পরিষ্কারের সময় ডিটারজেন্ট ও বিভিন্ন রাসায়নিক সরাসরি হাতের সংস্পর্শে আসে। নিয়মিত এমন সংস্পর্শে হাতের ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। তাই এসব কাজের সময় উপযুক্ত সুরক্ষামূলক গ্লাভস ব্যবহার করুন। কাজ শেষে হাত ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
অতিরিক্ত স্ক্রাব করবেন না
হাত মসৃণ করতে ঘন ঘন স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ত্বকে শুষ্কতা, জ্বালা বা ফাটার প্রবণতা থাকলে শক্ত স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে মৃদু এক্সফোলিয়েশন করে পরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
হাতের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সব সময় দামি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয় না। রোদ থেকে সুরক্ষা, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং, মৃদু ক্লিনজিং এবং ডিটারজেন্ট থেকে হাতকে সুরক্ষিত রাখলেই হাতের ত্বক দীর্ঘদিন নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
তথ্যসূত্র : ভোগ, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন
(ওএস/এএস/আগস্ট ১৩, ২০২৬)
