ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

গ্রিড আছে, আলো নেই: দায় কার?

২০২৬ আগস্ট ১৪ ১৭:৪৪:৫৩
গ্রিড আছে, আলো নেই: দায় কার?

মীর আব্দুল আলীম


জাতীয় দৈনিকগুলোতে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিদ্যুৎ সংকটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে এসেছে। দুই উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে আড়াইহাজারে নির্মাণ করা হয়েছে ১০৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র। দীর্ঘদিনের নির্মাণকাজ শেষে গ্রিডটি এখন প্রায় প্রস্তুত। চালু হলে এ গ্রিড থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কোরিয়া থেকে প্রকৌশলী দল এসে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, যাচাই ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করলেই গ্রিডটি চালু করা সম্ভব হবে এবং এ কাজ শেষ করতে সময় লাগতে পারে মাত্র সাত থেকে ১০ দিন। অথচ যে অঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে, যে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মুখে পড়ছে, সেই অঞ্চলের জন্য নির্মিত গ্রিডটি এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিদ্যুতের ঘাটতি আছে, মানুষের দুর্ভোগ আছে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অথচ সংকট মোকাবিলায় নির্মিত অবকাঠামো প্রস্তুত হয়ে পড়ে আছে। সাত থেকে ১০ দিনের কারিগরি কাজ যদি সত্যিই বাকি থাকে, তবে বছরের পর বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রিড চালুর অপেক্ষা কেন? জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ এই প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে। এটি এখন আর শুধু বিদ্যুৎ সংকটের বিষয় নয়; এটি প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা, প্রশাসনিক সমন্বয়, কারিগরি ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির প্রশ্ন।

রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি এই সংকটের একটি কারণ হলেও স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে। ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ভোল্টেজের ওঠানামায় বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা শিল্পাঞ্চল। রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে, নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠছে, বিনিয়োগ বাড়ছে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এই শিল্পকারখানার সঙ্গে যুক্ত। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা শুধু কয়েক ঘণ্টার অন্ধকার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উৎপাদন বন্ধ হওয়া, শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়া, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব, জেনারেটর চালিয়ে বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। এমন বাস্তবতায় একটি প্রস্তুত গ্রিড দ্রুত চালু করা গেলে স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে, ভুলতা গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে।

আড়াইহাজার ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রটি কোনো সাধারণ অবকাঠামো নয়। এ গ্রিড থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব। রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলা, স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভুলতা গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালে চালু হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এখন ২০২৬ সালেও যদি গ্রিডটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হয়, তাহলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পটি সময়মতো চালু হয়ে জনগণের কাজে লাগাই তার প্রকৃত সাফল্য। একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে যদি চিকিৎসাসেবা শুরু না হয়, একটি সড়ক তৈরি করে যদি তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করা হয়, কিংবা একটি গ্রিড নির্মাণ করে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজে না লাগানো যায়, তাহলে কাগজে প্রকল্প শেষ হলেও বাস্তবে জনগণ তার সুফল পায় না। আড়াইহাজারের গ্রিডের ক্ষেত্রেও এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেটিকে দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা কেন হয়নি এবং সাত থেকে ১০ দিনের কাজের জন্য এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলো কেন।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে, এটিও বাস্তবতা। রূপগঞ্জের সাওঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী আলাউদ্দিন বলেছেন, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোড ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে রূপগঞ্জেও লোডশেডিং কমবে। এই বক্তব্যের বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পড়বে। কিন্তু জাতীয় সংকটের কারণে স্থানীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ থেমে থাকতে পারে না। বরং সংকটের সময়ই স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট গ্রিডে কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প সঞ্চালন পথ থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বিন্যাস করা যায়। আড়াইহাজারের নতুন গ্রিডের গুরুত্ব এখানেই। এটি জাতীয় বিদ্যুৎ সংকটের একমাত্র সমাধান নয়, কিন্তু স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

ভুলতা গ্রিডের অভিজ্ঞতা আমাদের এ বিষয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ভুলতা গ্রিডে বড় ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভয়াবহভাবে কমে গিয়েছিল। তখন প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছিল ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০৫ থেকে ১১০ মেগাওয়াটে। একটি শিল্পাঞ্চলের জন্য এই পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক, তা সহজেই অনুমান করা যায়। একটি গ্রিডে সমস্যা দেখা দিলেই যদি পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়, তাহলে বিকল্প সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজন কতটা জরুরি, তা স্পষ্ট হয়। আড়াইহাজারের নতুন গ্রিড নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল এই ঝুঁকি কমানো। গ্রিডটি চালু হলে ভুলতা গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একটি উৎসে সমস্যা দেখা দিলে অন্য উৎস থেকে সরবরাহ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ বাড়বে। প্রস্তুত গ্রিডটি চালু না করে ফেলে রাখা মানে শুধু একটি অবকাঠামোকে অব্যবহৃত রাখা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সক্ষমতাকেও কাজে না লাগানো।

আমাদের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় একটি পুরোনো দুর্বলতা হলো, প্রকল্প গ্রহণ ও নির্মাণে যে আগ্রহ দেখা যায়, প্রকল্পটি সময়মতো চালু করে জনগণের কাছে সুফল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই তৎপরতা দেখা যায় না। একটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলেই সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই, অনুমোদন এবং পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করাই প্রকল্পের শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আড়াইহাজার গ্রিডের ক্ষেত্রে যদি বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁদের সময়মতো আনার বিষয়টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত ছিল। কোরিয়ান প্রকৌশলী দল কবে আসবে, তাঁদের কী কী কাজ করতে হবে এবং গ্রিডটি পরীক্ষামূলক ও পূর্ণাঙ্গভাবে কবে চালু হবে, এসব বিষয়ে স্পষ্ট সময়সূচি জনগণের সামনে থাকা প্রয়োজন। যদি কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি জটিলতা থাকে, সেটিও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো সম্পর্কে জনগণকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, বিনিয়োগ বাড়ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। এই শিল্পায়ন টেকসই করতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। একজন বিনিয়োগকারী শুধু জমি বা যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখেই সিদ্ধান্ত নেন না; বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও উৎপাদন অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতাও বিবেচনা করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, সময়মতো পণ্য সরবরাহ কঠিন হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে। ফলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আজকের প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদা আগামী দিনে আরও বাড়বে। তাই আড়াইহাজারের গ্রিড চালু করা শুধু বর্তমান লোডশেডিং কমানোর উদ্যোগ নয়, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুতেরও অংশ।

এখন দায় এড়িয়ে যাওয়ার সময় নয়। জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি থাকলে জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে হবে, পাশাপাশি স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাও দূর করতে হবে। প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে, কারিগরি সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তা নিরসন করতে হবে এবং কোরিয়ান প্রকৌশলী দলের প্রয়োজন হলে তাঁদের দ্রুত আনার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়, তাহলে সেই সময়সীমাকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা উচিত। শুধু শিগগিরই চালু হবে ধরনের আশ্বাস দিয়ে আর সময় পার করার সুযোগ নেই। প্রকৌশলী দল কবে আসবে, পরীক্ষা কবে শুরু হবে, গ্রিড পরীক্ষামূলকভাবে কবে চালু হবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কবে শুরু হবে, তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা প্রয়োজন।

কারণ গাফিলতির প্রতিটি দিনই অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি দিন। প্রতিটি ঘণ্টার লোডশেডিং কোনো পরিবারের দুর্ভোগ বাড়ায়, কোনো ব্যবসায়ীর ক্ষতি করে, কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত করে, কোনো কারখানার উৎপাদন থামিয়ে দেয় এবং কোনো উদ্যোক্তাকে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় করতে বাধ্য করে। এসব ক্ষতি সবসময় সরকারি হিসাবের খাতায় দেখা যায় না, কিন্তু অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব বাস্তব। তাই আড়াইহাজারের গ্রিড এখন আর শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি রাষ্ট্রের দক্ষতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জবাবদিহিরও পরীক্ষা। জনগণের অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কত দ্রুত জনগণের কাজে লাগানো যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছে না। তারা চায় তাঁদের অঞ্চলের জন্য নির্মিত বিদ্যুৎ অবকাঠামোটি দ্রুত চালু হোক, শিল্পকারখানাগুলো নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পাক, ব্যবসা বাণিজ্য স্বাভাবিক হোক এবং ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাক। জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়, কিন্তু যে সক্ষমতা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগাতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করারও কোনো যুক্তি নেই। সাত থেকে ১০ দিনের কাজ যদি সত্যিই বাকি থাকে, তাহলে সেই কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রস্তুত গ্রিডকে আর ফেলে রাখা নয়। এখন প্রয়োজন সিদ্ধান্ত, সমন্বয় এবং দ্রুত বাস্তবায়ন। রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের মানুষকে আর শুধু আশ্বাস নয়, ফল দিতে হবে। গ্রিড যখন আছে, সক্ষমতা যখন তৈরি, তখন আলো জ্বলতেই হবে। প্রশ্ন শুধু একটাই, সেই আলো জ্বলবে আর কতদিন পর?

লেখক :কলামিস্ট ও সাংবাদিক।