প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এএফসির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল কাতার
২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৪:৩৫:১৫
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে ঘিরে এশীয় ফুটবলে মতভেদ ও বিভাজন এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করে এবং তার পদত্যাগ দাবি করে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) ও কনকাকাফের যৌথ খোলা চিঠিতে অংশ নেওয়ায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে কাতার।
কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কিউএফএ) সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাকে পাঠানো এক চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ৪৭টি সদস্য দেশের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ও যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে কাতার বা তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই করা হয়নি।
আগামী বছর পুনর্নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ইনফান্তিনো সম্প্রতি বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার একটি ব্যর্থ উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।
ফিফা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব আলাদা করে ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার একটি প্রস্তাব এনেছিলেন তিনি। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন ফিফা সভাপতি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা ওই চিঠিতে ফিফা কাউন্সিল ও এএফসি নির্বাহী কমিটির সদস্য আল-থানি লিখেছেন, ‘একটি যৌথ মতামত আগে যাচাই করতে হয়; তা এমনি এমনি অনুমান করে নেওয়া যায় না এবং নিছক ঘোষণার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।’
৪৭টি সদস্য দেশের পক্ষ হয়ে কথা বলার জন্য এএফসি ঠিক কীসের ভিত্তিতে নিজেদের কর্তৃত্বপূর্ণ মনে করছে এবং এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আদৌ কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না, তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন কাতার ফুটবল প্রধান।
তিনি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘এই বিবৃতি প্রকাশের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কিউএফএ বা আমার সঙ্গে কোনো প্রকার পরামর্শ করা হয়নি। কোনো আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি, কোনো খসড়া পাঠানো হয়নি এবং এএফসির নামে প্রকাশ্যে আসার আগে এর ওপর মন্তব্য বা মতামত দেওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।’
এদিকে ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান এই সংকটের মধ্যে কাতার এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মরক্কোসহ ছয়টি আরব দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানরা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে চারজন কাতারের আল-থানি, মিসরের হানি আবু রিদা, মরক্কোর ফৌজি লেকজা এবং মৌরিতানিয়ার আহমেদ ইয়াহিয়া সরাসরি ফিফা কাউন্সিলের সদস্য।
এক যৌথ বার্তায় তাঁরা বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন, সব অঞ্চলে সুযোগের সম্প্রসারণ এবং মানুষ ও সমাজকে একত্রিত করতে ফুটবলের ভূমিকাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোর অবিচল প্রচেষ্টার আমরা গভীর প্রশংসা করি।’
(ওএস/এএস/আগস্ট ১৫, ২০২৬)
