ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

কুড়িগ্রামে ৬ বছরেও ৪টি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র চালু হয়নি

২৪ কোটি টাকার প্রকল্পে এখনো মিলছে না সুফল, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৭:৪৬:১৬
২৪ কোটি টাকার প্রকল্পে এখনো মিলছে না সুফল, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র ৬ বছরেও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি চালু হবে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। ৬ বছর আগে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতের সুযোগ তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।সেগুলো এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। দ্রুত কেন্দ্রটি চালু না হলে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ তৈরির উদ্দেশে কুড়িগ্রামের রাজারহাট, নাগেশ্বরী, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নির্মিত হয়। কিন্তু কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সংরক্ষণের অভাবে প্রতি মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারজাত সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া ২০১৮ সালে জেলার চার উপজেলার ৪ টি স্থানে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় প্রতিটি কেন্দ্র প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে কেন্দ্রগুলো হস্তান্তর করেন।

কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রগুলো চালু করতে পারেনি আরডিএ। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাগুলো এখন কার্যত অলস পড়ে আছে। জেলার বাকি তিনটি কেন্দ্রের অবস্থাও একই বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রগুলোতে ধান ভাঙানো, সরিষা প্রক্রিয়াজাত, মসলা ও চিপস তৈরি, বেকারি পণ্য উৎপাদন, দুধ, মাছ ও মাংস সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো চালু হলে প্রতিটি ক্কেন্দ্র প্রায় ২০ জন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাজারহাট কেন্দ্রের পাহারাদার রবিউল ইসলাম জানান, তাদের কাজ শুধু কেন্দ্র পাহারা দেওয়া। যন্ত্রপাতি সচল রাখা বা রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই।

অফিসের ইনচার্জ জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের কাজ হলো পাহারা দেওয়া। কেন্দ্রে বড় ২টি রুম ও ৩টি হিমাগার রয়েছে। এখানে রয়েছে অটো রাইসমিল ১টি, ড্রাইকেক তৈরির ওভেন ১টি, সরিষা ভাঙ্গা মিল ১টি, দই মেকার ২টি ও সস তৈরি মেশিন ১টি। তবে মেশিনগুলো কি অবস্থা রয়েছে তা জানা নেই। তবে কোন যন্ত্রপাতিই হারিয়ে বা চুরি যায়নি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে রাজারহাট উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস, এম, শওকত আলম বলেন, কেন্দ্রটি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। এটি রংপুর আরডিএ তত্বাবধানে রয়েছে।

রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, আগের নীতিমালা অনুযায়ী আরডিএর নিজস্ব জনবল দিয়ে কেন্দ্রগুলো পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন নীতিমালা পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে সমবায়ভিত্তিক সমিতি, এনজিও বা আগ্রহী উদ্যোক্তাকে ৩ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

(পিএস/এসপি/আগস্ট ২৫, ২০২৬)