প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
গাবতলীতে গৃহবধূর হাত বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন, স্বামী গ্রেপ্তার
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৮:৩৯:৩৫
বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার গাবতলীতে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে হাত বেঁধে মারধর এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ সুমি বেগম (২৮) বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় মামলা করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাপানিয়া উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলীর সঙ্গে সুমি বেগমের ১৩/১৪ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সুমি বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী বিভিন্ন সময় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বার সালিশ-বৈঠক হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
মামলার এজাহারে সুমি বেগম উল্লেখ করেন, গত ২৫শে আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইদ্রিস আলী তাঁকে গালাগাল করেন। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে রশি দিয়ে তাঁর দুই হাত বেঁধে ফেলেন। এরপর গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে মাথার চুল কেটে দেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ঘটনা ঘটিয়ে স্ত্রী সুমিকে ভয়ভিতি দেখিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বাহিরে চলে যান স্বামী ইদ্রিস আলী। পরে ১২ বছর বয়সী মেয়ে সোহাগী আক্তারের সহায়তায় তিনি ঘর থেকে বের হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি আমরা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে নেয়। সেইসাথে আমাদের একটি টিম অভিযান চালিয়ে আসামি ইদ্রিস আলীকে গ্ৰেফতার করে থানায় আনা হয়। গতকাল আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
(বিএস/এসপি/আগস্ট ২৬, ২০২৬)
