ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পাংশায় আবাসিক এলাকায় গুল কারখানা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

২০২৬ আগস্ট ২৭ ০০:৫৭:৩৬
পাংশায় আবাসিক এলাকায় গুল কারখানা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তামাকজাত গুল তৈরির একটি কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে এ ধরনের কারখানা চলায় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে কারখানাটির বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে ভয় পান বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

পাংশা পৌরসভার গুধিবাড়ী আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশেই দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। কারখানার প্রবেশপথে ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা ও খৈল ক্রয়-বিক্রয়ের কথা উল্লেখ করা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার ভেতরে তামাক প্রক্রিয়াজাত করে গুল তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটিতে কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক ছাড়া অন্যদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে ভেতরে কীভাবে তামাক প্রক্রিয়াজাত ও গুল তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

কারখানাটির আশপাশে রয়েছে পৌর ভূমি অফিস, পাংশা মডেল থানা, মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে তামাকের গুঁড়া, ধোঁয়া ও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে বায়ুদূষণের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তামাকের গুঁড়া ও ধোঁয়ার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে কাশি, শ্বাসকষ্ট, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, চোখে অস্বস্তি ও অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে বা অভিযোগ করতে চান না।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল হক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষকে কারখানাটির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে গুল কারখানার ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া মুঠোফোনে জানান, আমাদের গুল কারখানার অনুমতি পত্র আছে।

অন্যদিকে, রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুঠোফোনে জানান, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে চললেও এ বিষয়ে আমাদের কাছে আগে কোনো অভিযোগ বা সংবাদ আসেনি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এখন কারখানাটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আবাসিক এলাকায় তামাকজাত গুল তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগের পর এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে কারখানাটির বৈধতা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং এর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। নিয়মবহির্ভূত কিছু পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

(একে/এএস/আগস্ট ২৭, ২০২৬)