ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

ছুটির ঘণ্টা: শৈশবের ভালোবাসা মাখা দিনগুলোর মধুর স্মৃতিধ্বনি

২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৭:২৩:২১
ছুটির ঘণ্টা: শৈশবের ভালোবাসা মাখা দিনগুলোর মধুর স্মৃতিধ্বনি

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : ছুটির ঘণ্টা-শুধু বিদ্যালয় ছুটির একটি সংকেত নয়, এটি যেন আমাদের ফেলে আসা শৈশবের দরজায় কড়া নাড়া এক মায়াবী শব্দ। আজও কোথাও স্কুলের ঘণ্টা বাজলে মুহূর্তেই মনে পড়ে যায় সেই ছোট্টবেলার দিনগুলো-কাঁধে ব্যাগ,হাতে বই আর বাড়ি ফেরার দুরন্ত আনন্দ।

শেষ ক্লাসে চোখ থাকত বইয়ের পাতায়, অথচ মন পড়ে থাকত ঘড়ির কাঁটায়। কখন বাজবে সেই কাঙ্ক্ষিত ঘণ্টা। অবশেষে টং টং করে ঘণ্টা বেজে উঠলেই শ্রেণীকক্ষ ভরে যেত ব্যস্ততায়। কেউ ছুটত বাড়ির পথে, কেউ বন্ধুর সঙ্গে গল্পে মেতে উঠত, কেউবা মাঠে দাঁড়িয়ে খেলায় মগ্ন হতো। সামান্য কিছু মুহূর্তেই যেন লুকিয়ে ছিল এক পৃথিবী আনন্দ।

শৈশবের সেই আনন্দ ছিল বড়ই সহজ। বন্ধুর টিফিন ভাগ করে খাওয়া, মাঠে দৌড়ঝাঁপ, ছোট্ট অভিমান, আবার মুহূর্তেই মিলেমিশে যাওয়া-এসবই ছিল ভালোবাসার নির্মল প্রকাশ। তখন সুখের সংজ্ঞা ছিল খুব ছোট, কিন্তু সেই সুখ ছিল গভীর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে”-এই পঙ্‌ক্তির মতোই শৈশবের দিনগুলোও ছিল সরল, ছন্দময় ও আপন সৌন্দর্যে ভরা। আর জীবনানন্দ দাশের “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়” পঙ্‌ক্তির মতোই আজকের ব্যস্ত মানুষটিও বারবার ফিরে যেতে চায় সেই পরিচিত বিদ্যালয়ের চত্বরে।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন, “এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি”- শিশুর নির্মল পৃথিবীর প্রতি যে ভালোবাসা, আমাদের শৈশবও ছিল ঠিক তেমনই নির্মল। সেখানে ছিল না জীবনের কঠিন হিসাব; ছিল শুধু বন্ধুত্ব, স্বপ্ন, হাসি আর আগামী দিনের অজানা আনন্দ।

সময়ের স্রোতে সেই দিনগুলো আজ অনেক দূরে। বিদ্যালয়ের বেঞ্চ বদলেছে, বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়েছে, জীবনও ব্যস্ততার নানা বাঁকে হারিয়ে গেছে। তবু কোনো বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ছুটির ঘণ্টা কানে এলে মনে হয়-সময় বুঝি থমকে দাঁড়িয়েছে। আবার বুঝি কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছুটছি বাড়ির পথে।

ছুটির ঘণ্টা তাই কেবল একটি শব্দ নয়-এটি শৈশবের ভালোবাসা,বন্ধুত্ব,হাসি ও নির্মল আনন্দের স্মৃতিবাহী এক অমলিন সুর। যে সুর থেমে গেছে বহু বছর আগে, অথচ হৃদয়ের গভীরে আজও বাজে।

(বিএস/এসপি/আগস্ট ২৭, ২০২৬)