ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

দিনাজপুরে অবৈধভাবে মজুত করা ২৩৪০ বস্তা সার জব্দ 

২০২৬ আগস্ট ২৮ ১৮:২৮:১৮
দিনাজপুরে অবৈধভাবে মজুত করা ২৩৪০ বস্তা সার জব্দ 

শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত রাখা দুই হাজার ৩৪০ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পৃথক দুটি অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ বিপুল পরিমাণ সার জব্দ এবং কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টায় বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে বিসিআইসি লাইসেন্সধারী ডিলার নওশাদ ট্রেডার্স ও জনতা হাসকিং মিলের অবৈধ চাউল মিল ও ভুট্টা গুদাম হতে ১ হাজার ৪৯৩ বস্তা টিএসপি, ১৮১ বস্তা ডিএপি এবং ২১৬ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ১ হাজার ৮৯০ বস্তা বরাদ্দ বহির্ভূত সার জব্দ করা হয়।

অভিযান চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জনতা অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাজী ফয়সাল-কে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এর আগে মঙ্গলবার ২৫ আগষ্ট রাতে একই উপজেলার কবিরাজহাটে বিএডিসি নিবন্ধিত কৃষি বীজঘর গোডাউনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এট্রিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন। এ সময় গোডাউন থেকে অবৈধ মজুদকৃত ৪৫০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে গোডাউনের ম্যানেজার মো. জনি ইসলাম-কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হয়। জব্দকৃত সারগুলো সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ বহির্ভূত সার জব্দ করা হয়েছে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জব্দকৃত সারগুলো সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে যা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে। নন-ইউরিয়া সারের মজুদ মাসের শেষে কম থাকলেও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আগামী মাসের বরাদ্দকৃত সার পাওয়া যাবে। ফলে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।

অভিযানে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, বীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম এবং জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি)-এর আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করেন।

(এসএস/এসপি/আগস্ট ২৮, ২০২৬)