প্রচ্ছদ » পাশে দাঁড়াই » বিস্তারিত
বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পরও থামেনি লড়াই
গোবিপ্রবি শিক্ষকের চিকিৎসায় প্রয়োজন ২৫ লাখ টাকা
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৮:১৫:০০
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন। কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। তারপরও পুরোপুরি সুস্থ হননি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফেরদৌস। বরং ক্যান্সার পরবর্তী নানা জটিলতায় প্রতিনিয়ত চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
২০২৪ সালের মার্চে অধ্যাপক ড. গোলাম ফেরদৌসের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় টাটা মেডিকেল সেন্টারে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। এরপর চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি।
গত ২৬ জুন ২০২৬ তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ভারতের টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাকে। এর মধ্যে ৮ দিনই কাটাতে হয়েছে আইসিইউতে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ড. গোলাম ফেরদৌস বলেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতি মাসে একবার করে ছয় মাস IVIG ইনজেকশন নিতে হবে। যার প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার টাকা। ৬টি ইনজেকশন নিতে প্রয়োজন ১২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অন্তত ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং সর্বশেষ নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায় ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত পরিবারটির পক্ষে এ ব্যয় বহন করা একেবারে অসম্ভব।
এ অবস্থায় ড. গোলাম ফেরদৌসের পরিবার প্রধানমন্ত্রী, ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দেশের সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান, কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনসহ দেশ ও বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ড. গোলাম ফেরদৌস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ২০১৮ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ২০২১ সালে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।
আর্থিক সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম: ড. গোলাম ফেরদৌস, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, জিএসটিউ শাখা, গোপালগঞ্জ, সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২০০০১২৭৯৭৩৮৩ এবং বিকাশ- ০১৭১২-৭৯৪২০৩ (ব্যক্তিগত)।
(টিবি/এসপি/আগস্ট ৩০, ২০২৬)
