ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

একই পরিবারে ৪ খুন রংপুরকে হিন্দুশূন্য করার ষড়যন্ত্র 

২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:২৪:১৬
একই পরিবারে ৪ খুন রংপুরকে হিন্দুশূন্য করার ষড়যন্ত্র 

শিতাংশু গুহ


রংপুরে একই পরিবারের ৪জন খুন নুতন করে জানান দিচ্ছে যে, বাংলাদেশে হিন্দুরা আর মুসলমানের সাথে থাকতে পারবে না। তাদের সামনে দু’টি রাস্তা খোলা, (১) দেশত্যাগ (২) বাঁচার জন্যে ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া’। শত্রু কে? পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে, শত্রু নয় কে? স্বল্পসংখ্যক মানুষ বাদ দিলে বাংলাদেশের সরকার, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, মিলিটারি বা প্রায় সবাই এন্টি হিন্দু। হিন্দুদেরই সম্ভবত: বাংলাদেশকে আর একবার রক্ষা করতে হবে!

বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোন সরকার ‘হিন্দু-বান্ধব’ ছিলোনা। প্রতিটি সরকার মৌলবাদীদের তোষণ করে দেশকে আজ এ জায়গায় নিয়ে এসেছে। এ থেকে কারোই মুক্তি নেই? বাংলাদেশকে বাঁচাতে এ মুহূর্তে একজন ‘কামাল আতাতুর্ক’ দরকার। সমস্যা হলো, কামাল আতাতুর্কের দেশ ‘তুরস্ক’ এখন জঙ্গিদের অভয়ারণ্য। হিন্দু থাকুক বা না থাকুক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এটিও সত্য, বাংলাদেশের ২কোটি হিন্দু হারিয়ে যাবেনা।

রংপুরে এক পরিবারে ৪জন খুন হয়েছে, সমস্যা হলো প্রশাসন, সরকার, মিডিয়া দেখলো ৪জন হিন্দু খুন হয়েছে! বাংলাদেশে হিন্দু খুনের মহোৎসব চলছে। ‘খুনকে খুন হিসাবে না দেখে এঁকে ধর্মীয় রং দেয়াই দেশের মূল সমস্যা। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ধর্মীয় আধিপত্যবাদ’। ধর্ম মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, মানবিকতা সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। হিন্দুরা যে সমস্যায় ভুগছে ক’দিন বাদে সবাই তাতে ভুগবেন।

রংপুর এখন টার্গেট। ইউনুস শাহীর ভারত বিরোধিতা মৌলবাদের মনে ভয় জাগিয়ে দিয়েছে যে, ‘রংপুর হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে’। শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক থেকে রংপুরের দূরত্ব অল্প। এই অমূলক ভয় থেকে রংপুরে হিন্দুশূন্য করার প্ল্যান। পলাশবাড়ীর রামমুর্ক্তি ঘটনা, হরিদাস চন্দ্র তরুণীদাস গ্রফেতার ঘটনা একই নীল নকশার অংশ। চট্টগ্রামে হিন্দুদের ওপর বর্বর নির্যাতনের কাহিনীও একই সুতায় গাঁথা। বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে হিন্দু বিতারণ সফল হবেনা।

রংপুরের পুলিশ বারবার বক্তব্য পাল্টাচ্ছে। হিন্দুকে শিখন্ডী করে হিন্দুদের ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশ ‘পুতুল নাঁচ’ নাচছে, পেছন থেকে কেউ সুতার টানে পুলিশকে নাচাচ্ছে। পুলিশ কাকে বাঁচাতে চাচ্ছে এবং কেন? ‘জজ মিয়া’ নাটক কার স্বার্থে? সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানী ভুত মুক্ত করতে হবে। বিষয়টি শুধু পাকিস্তান নয়, বিষয়টি ধর্মীয় আধিপত্যবাদ। পুরো দেশকে ধর্মীয় আধিপত্যবাদ মুক্ত করতে না পারলে দেশ বাঁচানো সম্ভব নয়?

বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু হত্যা ঘটনায় ২কোটি হিন্দুর পিঠ দেয়ালে থেকে গেছে। একটি বিড়ালকে ঘরের সবগুলো দরজা-জানালা বন্ধ করে মারতে চাইলে বিড়ালটি বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে পাল্টা আক্রমণ করে। পলাশবাড়ী আন্দোলনে এডভোকেট চৈতালি মুখার্জি বলেছেন, ‘দাঙ্গা বাঁধাবেন না, আপনারা ২টা মারলে আমরাও ১টা মারবো, কিন্তু আমরাও মারবো’। এটি ধ্রুব সত্য, মুসলমানের যেমন বাঁচার অধিকার আছে, হিন্দুরও তেমনি বাঁচার অধিকার আছে। এবং বাঁচার জন্যে যেকোন সংগ্রাম ‘নৈতিক ও বৈধ’।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।